সিলেটে বন্যার পর পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব

সিলেটে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। সুরমা ও কুশিয়ারার পানি  বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

সিলেটে পানিবাহিত রোগে ৬২০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। শুক্রবার একদিনে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৫৭ জন। এখন পর্যন্ত জন্ডিস বা ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়া নলকূপ জীবাণুমুক্ত করার কাজ শুরু করেছে।  

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন  ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, আবদ্ধ পানি থেকে ম্যালেরিয়া কিংবা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। বন্যায় নলকূপ ডুবে যাওয়ায় অনেকেই পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ব্যবহার করে পানি পানি করেছেন। কিন্তু পানি কমায় অনেকেই প্লাবিত নলকূপ কিংবা ডিপ টিউবওয়েলের পানি পান করছেন। এতে জীবাণু মানুষের শরীরে ঢুকতে পারে।

ডেপুটি সিভিল সার্জন আরও বলেন, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকা। এ কারণে এই চার উপজেলা নিয়ে সতর্কবস্থায় রয়েছেন।

এবারের বন্যায় প্রায় ১২ হাজার নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বেসরকারি সূত্র জানায়, এই ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে। সিলেট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের -নির্বাহী প্রকৌশলী আলমগীর হোসেন ইত্তেফাককে জানান, বন্যায় সিলেট জেলা ১২ হাজার নলকূপ ও প্রায় ৭৮ হাজার শৌচাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় জরুরি ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে এই হিসাব নিরূপণ করা হয়। জকিগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় ৬ হাজার ৫০০ মিটার পানি সরবরাহের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সব মিলিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি টাকা। 

নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, বেশির ভাগ এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ ও শৌচাগার সংস্কার হয়নি। ফলে সুপেয় পানির অভাব ও স্যানিটেশনের সমস্যায় ভুগছেন। বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় নলকূপগুলো  দ্রুত জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে।