গরমে তরমুজ খেলে শীতল অনুভূতি হয়, কড়া রোদে প্রশান্তি এনে দেয়। তরমুজের আছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। আবার স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় তরমুজ খাওয়া থেকেও বিরত থাকা উচিত। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের। তাহলে কী ডায়াবেটিস রোগীরা তরমুজ খাবেন না, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
ডায়াবেটিস থাকলে খাওয়াদাওয়ায় অনেক কিছু বিধিনিষেধ চলে আসে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতি বেলার খাবারে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন পড়ে। ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ফল মানেই যে স্বাস্থ্যকর এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। কারণ ফলের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক শর্করা এবং কার্বোহাইড্রেট। তাই ডায়াবেটিস আছে এমন রোগীদের সুস্থ থাকতে প্রতিটি খাবারে ভারসাম্য রাখা খুব প্রয়োজন।
রক্তে শর্করার মাত্রা কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকবে তা নির্ভর করে খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মাত্রার উপর। সহজ করে বললে, খাবারে গ্লাইসেমিক সূচক যত কম হবে, তত ধীরে ধীরে এটি রক্তে শোষিত হবে। গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মাত্রা শূন্য থেকে একশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। জিআই-এর মাত্রা যত বেশি হবে চিনি রক্তে তত দ্রুত প্রবেশ করবে। অ্যান্টি অক্সিড্যান্ট, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট সমৃদ্ধ তরমুজে কিন্তু বেশির ভাগই পানি। ১২০ গ্রাম তরমুজে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স প্রায় ৫।
ডায়াবেটিস রোগীরা তরমুজ খেতে পারেন, তবে বেশি পরিমাণে নয়। কয়েক টুকরো খেতে পারেন। আর তরমুজের সঙ্গে অন্য কোনো খাবার না খাওয়াই ভালো। দিনেরবেলা খেলেও রাতে তরমুজ এড়িয়ে চলুন। সবচেয়ে ভালো হয় সকালে তরমুজ খেলে। কারণ সে সময়ে বিপাক হার বেশি থাকে। তবে পেট ভরে অন্য খাবার খাওয়ার পর, কিংবা ঘুমতে যাওয়ার আগে এই ধরনের মিষ্টি ফল খেলে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে। তাই জেনে বুঝে নিয়ম মেনে তারপর পরিমাণমতো মৌসুমি ফল খাওয়া উচিত। প্রয়োজনে একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিতে পারেন।