ভারত থেকে এলসি করা গম আমদানি করতে পারছেন না দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকেরা। গত ১৩ মে ভারত সরকার গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও ১২ মে পর্যন্ত এলসি করা গম বাংলাদেশে রপ্তানির সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু সেই গম ঠিকমতো রপ্তানি করা হয়নি। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমদানিকারকেরা।
এদিকে, গত রোববার (২৯ মে) ভারত থেকে ২টি গম বোঝাই ভারতীয় ট্রাক দেশে প্রবেশ করলেও আজ সোমবার (৩০ মে) কোনো গমবাহী ট্রাক বন্দরে প্রবেশ করেনি। ফলে বন্দরের ওপারে বেশকিছু গমের ট্রাক আটকা পড়েছে। এর পরিমাণ ১৫ থেকে ১৬’শ মেট্রিকটন গম।
বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রবিউল ইসলাম সুইট জানান, ভারতে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ১৩ মে ভারত সরকার বাংলাদেশে গম রফতানি বন্ধ করে দেয়। ফলে ভারতে এলসি করা গম আমদানি করে দেশে আনতে বিপাকে পড়েন বন্দরের আমদানিকারকেরা। এ অবস্থায় গত ১৫ মে আমদানিকারকরা ভারতের রপ্তানিকারকদের আগের অর্থ্যাৎ ১২ মে তারিখের টেন্ডার হওয়া গম রফতানির জন্য চাপ সৃষ্টি করলে রপ্তানিকারকরা বাংলাদেশে গম রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকে বন্দর দিয়ে কয়েক দফা গম রফতানি করা হয়। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী গম রপ্তানি করা হচ্ছে না।
রবিউল ইসলাম আরও জানান, গত ১২ মে পর্যন্ত হওয়া এলসির বিপরীতে গম রফতানির আশ্বাস দিলেও তা পাঠানো হচ্ছে না। এতে করে বন্দরের ওপারে হিলি, ত্রিমহনী ও পতিরামে ৫-৬’শ গমের ট্রাক আটকা পড়েছে। যা গমের পরিমাণ হবে ১৫’শ থেকে ১৬’শ মেট্রিক টন। দীর্ঘ দিন ধরে ট্রাকগুলো আটকা থাকায় গমের মান নষ্ট হচ্ছে। এদিকে, আগে ডলারের দাম কম থাকলেও দিন দিন তা বাড়তে থাকায় বিল ছাড়তে বাড়তি অর্থ গুণতে হচ্ছে।
বন্দরের আমদানিকারক হায়াত মোহাম্মদ সেরেগুল মুন্সী বলেন, ‘ভারতের হিলির ২ জন রফতানিকারক বাংলাদেশে গম রফতানির অনুমতি পেয়েছেন। কিন্তু সে দেশের হিলি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের জটিলতায় সেই গম বাংলাদেশে সোমবার পর্যন্ত আসেনি।’ তবে রপ্তানি বন্ধের বিষয়টি দ্রুত সুরাহা হবে বলে জানান তিনি।
ভারতীয় রপ্তানিকারক পান্না আগওয়াল ও নন্দ সাহা বলেন, ‘আমাদের সরকার ১৩ মে বাংলাদেশে গম রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। সেই মোতাবেক হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গম রপ্তানি করা হয়নি। তবে ১২ মে তারিখে টেন্ডারের যেসব গম ছিল সেগুলো রফতানি অব্যাহত ছিল। এ অবস্থায় ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ক কর্তৃপক্ষ ১২ মে এর মধ্যে হওয়া এলসির সুইফট ওই দিনের মধ্যে ভারতে পৌঁছানো সাপেক্ষে গম রফতানির নির্দেশনা দেয়। তবে এর বিপরীতে সেগুলো রপ্তানি করা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের দেশের কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে সরকারের তরফ থেকে চিঠি না আসায় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ রপ্তানির অনুমতি দিচ্ছে না। এই এলসিগুলোর বিষয়ে আদেশের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে রফতানিকারকরা বৈঠক করবেন। তবে এই বৈঠক মঙ্গল বা বুধবার হতে পারে। এরপর সিদ্ধান্ত হতে পারে বাকি এলসিগুলোর বিষয়ে।’
এদিকে হিলি স্থলবন্দরের বেসরকারি অপারেটর পানামা পোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন মল্লিক বলেন, হিলি বন্দর দিয়ে আগে বেশি পরিমাণে গম এলেও গত ৮/৯ দিন ধরে গম আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। গত রবিবার বন্দর দিয়ে আবারও আমদানি হয়েছে। তবে সোমবার ভারত থেকে গম আসেনি।’
হিলি স্থলবন্দরের কাস্টমস রাজস্ব কর্মকর্তা নুরল আমীন খান বলেন, ‘গম আমদানি হলে আমরা শুল্কায়ন করি। তবে আমদানি বন্ধ আছে কিনা না তা আমাদের অফিসিয়ালভাবে জানা নেই।’