সিলেটকে তুলে ধরার স্বপ্ন নাবিলার

জান্নাতুন নূরী চৌধুরী নাবিলা। সিলেটের মেয়ে, খেলা পাগল। বঙ্গমাতা ফুটবলে খেলে এক ম্যাচে সাত গোল করেছিলেন স্ট্রাইকার নাবিলা। সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছিলেন এই তরুণী। নারী ফুটবল লিগে এম কে গ্ল্যাকটিকো সিলেট এফসির জার্সি গায়ে খেলেছেন ঢাকায় কমলাপুর স্টেডিয়ামে।

স্বপ্ন ছিল নিজেকে অনেক দূর নিয়ে যাবেন। কিন্তু হয়নি। তার চোখে নতুন স্বপ্নের আলপনা। নারী জাতীয় ফুটবল দলে সিলেটের প্রতিনিধিত্ব করার মতো অন্তত একজন ফুটবলার উঠে আসুক। সেই স্বপ্নের বুনন দিতে কোচিং কোর্স করেছেন। বাফুফে হতে সার্টিফিকেট পেয়েছেন। এখন বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছে। মৌলভীবাজার সদর উপজেলা দলের কোচ হয়েছেন।

শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজারের ভৈরবগঞ্জ ফুটবল একাডেমিতে ছেলেদের ফুটবল হতো। ২২ বছর বয়সী নাবিলা নিজ আগ্রহে সেখানে নারী ফুটবলের পথ তৈরি করেছেন। এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারাও নাবিলাকে সহযোগিতা করছেন। নাবিলা বললেন, ‘আমি আমার স্বপ্নটা সিলেটের অন্য নারী ফুটবলারদের মধ্যে তুলে ধরতে চাই। এখন জাতীয় নারী ফুটবল দলে সিলেটের কোনো ফুটবলার নেই। আমি চাই সিলেট থেকেও নারী ফুটবলার জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়াক।’

নাবিলা মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজে দুই বছর পড়েছেন। দারুণ কেটেছে তার এই দুই বছর। বললেন, ‘১০০ মিটার স্পি্রন্ট, ৪০০ মিটার, বর্ষানিক্ষেপ কিংবা হাইজাম্প। সব কয়টা খেলায় আমি প্রথম হয়েছি।’

নাবিলা খেলাধুলায় প্রাণ খুঁজে পান। তাই গরিব দুঃখী যারা খেলাধুলা করেন তাদের প্রতিও সহমর্মিতা কম না। বললেন, ‘অনেক নারী ফুটবলার রয়েছেন যাদের হাতে পুরো পারিশ্রমিকটা পৌঁছায় না। আমার হাতে যখন টাকাটা দেওয়া হয় আমি সবাইকে বুঝিয়ে দেই। এটাই আমার সান্তনা। আমাদের খেলোয়াড়রা কেউ বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। কেউ চা বাগানে কাজ করেন। বুট কিনতে পারেন না। আমরা দেওয়ার চেষ্টা করি। অথচ মেয়েদেরকে ফুটবল মাঠে আনতে কতো কষ্টই না করতে হয়েছে। অনুশীলনের মাঠ পেতাম না। বাগানে গিয়ে অনুশীলন করতে হয়েছিল। সবার সহযোগিতা চাই আমরা।’

নাবিলা এখন কোচ হয়েছেন। কোচিং কোর্স করে আরও বেশি শেখার চেষ্টা করছেন। তাকে সহযোগিতা করতে পরিবার হতে বাবা শাহানুর আহমেদ চৌধুরী ছাতা হয়ে নাবিলার মাথার ওপরে রয়েছেন। শ্রীমঙ্গল উপজেলার, কালাপুর গ্রামে থাকেন নাবিলা। মা ছামিয়া খাতুন। চার বোন এক ভাই। বোনদের মধ্যে নাবিলা সবার ছোট। পড়ছেন মৌলভীবাজার সরকারি ডিগ্রি কলেজে।