রাজনীতিক প্রার্থী বেশি আওয়ামী লীগে

৩৬ জন মুক্তিযোদ্ধা Åপাকিস্তান আমল থেকেই রাজনীতি করে আসছেন ৩৫ জন Åব্যবসায়ী ১৭

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে রাজনীতিকরাই প্রাধান্য পেয়েছে আওয়ামী লীগে। তিন প্রজন্ম আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত এমন পরিবার থেকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ এমপি প্রার্থী ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন। সাবেক সংসদ সদস্যের সন্তান রয়েছে ৩৩ জন। তাদের কেউ কেউ বাবার হাত ধরে রাজনীতিতে এসে দক্ষতার পরিচয়ও দিচ্ছেন। এদের কারো পরিবার আবার দাদার আমল থেকেই আওয়ামী লীগে জড়িত। এছাড়া নৌকার প্রার্থী তালিকায় পাকিস্তান থেকে রাজনীতি করে আসছেন ৩৫ জন, ৩৬ জন মুক্তিযোদ্ধা, ১০ জন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, ১২ জন চিকিত্সক এবং ২১ জন আইনজীবী রয়েছেন।

আওয়ামী লীগের এমপি প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ১০৩ জন রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায়ও জড়িত। এদের মধ্যে কয়েকজন শিল্পপতিও আছেন। আর ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে রাজনীতিতে এসেছেন ১৭ জন। বাকিরা রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসা করেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, যশোর, রাজশাহী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর ও টাঙ্গাইলে বড় ব্যবসায়ীদের নাম আছে প্রার্থী তালিকায়। তবে একেবারে তৃণমূলের রাজনীতি করে আসা নেতার সংখ্যা ১৮ জন। ৮৭ জন ছাত্রলীগের রাজনীতি করে উঠে এসেছেন। ৪০ জনের পরিচয় শুধুই রাজনীতিক। তারা আর কিছু করেন না। পাঁচজন শিক্ষকতায় জড়িত ছিলেন। সাবেক সেনা কর্মকর্তা ৮ জন। কৃষিতে জড়িত আছেন ১২ জন।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বনামধন্য জরিপ প্রতিষ্ঠান এবং দলের অভিজ্ঞ একাধিক টিমের মাধ্যমে কয়েক দফা মাঠ জরিপ চালিয়ে তিনশ’ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের জনপ্রিয়তার বাস্তব চিত্র তুলে এনে এবার আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। ৩০০ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ৪ হাজার ২৩ জন। জানা গেছে, এবার ২৬৪টি আসনে ২৮১ জন প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ৩৬টি আসনে আওয়ামী লীগ কোনো প্রার্থী দেয়নি। ১৭টি আসনে একজন করে বিকল্প প্রার্থী রেখেছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবে এটা আগেই বলা হয়েছিল। নানা কারণে যারা বিগত সময়ে বিতর্কিত-সমালোচিত হয়েছে তাদের এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে না এমন সিদ্ধান্ত ছিল। শতাধিক মন্ত্রী-এমপি বাদ পড়বে বলে আলোচনাও ছিল। কিন্তু বাস্তবে তেমন কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তের জরিপের ফলাফলকে আমলে নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবার গত দুই বছর ধরে একাধিক জরিপ চালিয়েছেন। জনপ্রিয় রাজনীতিকদের হাতে নৌকার টিকিট দিতে তিনি তিন মাস পরপর আসনভিত্তিক জরিপ রিপোর্ট আপডেট করেন। জরিপে যাদের রিপোর্ট খারাপ আসছিল তাদের বারবার সতর্ক করছিলেন শেখ হাসিনা। এতে অনেক সমালোচিত এমপি সংশোধন হওয়ার সুযোগ পায়। এ কারণে তারা বাদ পড়েনি।