কুমিল্লা সিটি নির্বাচন

সাক্কু-রিফাত বাগযুদ্ধ ছড়াচ্ছে উত্তাপ

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে পুরো নগরী। ভোটারদের মন জয় করতে নানা কৌশল অবলম্বন করছেন মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। বিশেষ করে কাউন্সিলর প্রার্থীরা গণসংযোগ ও প্রচারণায় বেশ তৎপর রয়েছেন। তবে মেয়র পদে সদ্য সাবেক মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কুকে টার্গেট করে কথার বোমা ফাটাচ্ছেন আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত। বৃহস্পতিবার এক পথসভায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাক্কু একজন দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত, তা প্রমাণ করতে না পারলে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াব।’ তার এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে।

তবে রিফাতের এমন বক্তব্যকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সাক্কু। তিনি বিভিন্ন স্হানে পথসভা ও উঠান বৈঠকে বলেন, ‘গত ১০ বছর মেয়রের চেয়ারে ছিলাম, কই—তখন তো তিনি কিংবা তার দল আওয়ামী লীগের কোনো নেতা বা নগরীর অন্য কেউ এমন মন্তব্য করেনি। ভোটারদের বিভ্রান্ত করে সুবিধা নিতে তিনি (রিফাত) কথার বোমা ফাটাচ্ছেন। এখন কেন এসব অভিযোগ তুলছেন তা নগরবাসী বোঝেন।’ এই দুই মেয়র প্রার্থীর বাগ্যুদ্ধে ভোটের মাঠে রীতিমতো উত্তাপ বাড়ছে। তাদের কর্মী-সমর্থকরাও এসব পালটাপালটি মন্তব্য ছড়াচ্ছেন নগরীর আনাচে-কানাচে।

প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণার সপ্তম দিনে বৃহস্পতিবার নগর ঘুরে দেখা গেছে, প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা বিভক্ত হয়ে নগরীর অলিগলিতে নেমে পড়েছেন। তারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি উন্নয়ন পরিকল্পনার ফিরিস্তি তুলে ধরে ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভোটারদের প্রভাবিত করতে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় আছেন তরুণী ও নারীদের পাশাপাশি হিজড়া সম্প্রদায়ের লোকেরাও। মেয়র প্রার্থীদের কেউ বলছেন, নির্বাচিত হলে নগরীকে ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটিতে পরিণত করবেন। কেউ চান অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে, আবার কেউ চান হিংসা-বিদ্বেষ এড়িয়ে অহিংস পদ্ধতি অবলম্বন করে সম্প্রীতির আধুনিক নগর গড়ে তুলতে। এছাড়া সিটি করপোরেশনে অতীত দুর্নীতির বিচার, পোস্টার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার বিষয়ে প্রার্থীদের পালটাপালটি অভিযোগ তো আছেই।

মেয়র প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা

গতকাল কুমিল্লা টাউন হল, টমছমব্রিজ, উনাইসার, দিশাবন্দ, শাকতলা, আশ্রাফপুরসহ বিভিন্ন স্হানে নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের সমর্থনে একাধিক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রার্থী রিফাত নগরীর কান্দিরপাড়, রামঘাটলা, টাউন হল সুপার মার্কেট, মনোহরপুর, ছাতিপট্টি, গোয়ালপট্টি, কাপড়িয়াপট্টি, সুইপার কলোনিসহ বিভিন্ন স্হানে গণসংযোগ করেন। বিকালে তিনি কুমিল্লা টাউন হল মিলনায়তনে যুবলীগ আয়োজিত মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু (টেবিল ঘড়ি) সকাল থেকে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করেন। তিনি নগরীর ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের চৌয়ারা বাজার, ধনাইতরী, ধনপুর, পাঠানকোট, শামবক্শী, ধনেশ্বরসহ বিভিন্ন স্হানে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভা করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন অনুসারী নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার (ঘোড়া), কামরুল আহসান বাবুল (হরিণ) বিভিন্ন এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করেন।

সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ খারাপের দিকে যায়— এমন বক্তব্য থেকে প্রার্থীদের সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচনের আচরণবিধি মেনে চলার জন্য সকল প্রার্থীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।