বগুড়ায় জোড়-বেজোড় সংখ্যায় যানজট নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা

বগুড়া শহরের যানজট নিরসনে প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নিলেও কার্যত তা কোনো কাজে আসেনি। দিন দিন এর তীব্রতা এত বেড়েছে যে, শহরের মানুষ হেঁটেও চলাচল করতে পারছে না। এমন অবস্থায় প্রশাসন শহরের যানজট নিরসনে নতুন এক গুচ্ছ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে।

বগুড়া শহরে যানজট নিরসনে সবচেয়ে বড় যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সেটি হলো—শহরের মূল অংশে ব্যাটারিচালিত ছয় আসনবিশিষ্ট ইজিবাইক ছাড়া আর কোনো রিকশা চলবে না। এজন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে ২ হাজার ইজিবাইককে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে। ৪৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ১৫ জুলাই ইজিবাইক চলাচলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে। অনুমোদন পাওয়া এসব ইজিবাইককে জোড় সংখ্যা এক দিন, বেজোড় সংখ্যা এক দিন এবং লাল ও সবুজ দুই ধরনের গাড়ি চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

বুধবার বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বগুড়া শহরের তীব্র যানজটের কারণ ও সম্ভাব্য প্রতিকার বিষয়ে আলোচনাসভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে আলোচনাসভায় জেলার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, পৌর মেয়র, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, ২ হাজার ইজিবাইককে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হলেও প্রতিদিন চলাচল করবে মাত্র ১ হাজার ইজিবাইক। অর্থাৎ এক দিন যে ইজিবাইক চলবে পরদিন সেটির চলাচল বন্ধ রাখতে হবে। কোন দিন কোন ইজিবাইক চলাচল করবে, তা রেজিস্ট্রেশন নম্বরের জোড় এবং বেজোড় সংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। ব্যাটারিচালিত চিকন চাকার রিকশা মূল শহরে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে মূল শহরের বাইরে রিকশাগুলো চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। রেজিস্ট্রেশনবিহীন কোনো সিএনজিচালিত থ্রি হুইলার শহরের মধ্যে চলাচল করতে পারবে না। রাস্তার ওপর কোনো সিএনজি স্ট্যান্ড, ইজিবাইক স্ট্যান্ড থাকতে পারবে না। শহরের রাস্তা ও ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে হবে। যত্রতত্র রাস্তায় গাড়ি, মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শহরে কোনো ভারী যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। বগুড়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘পার্কিং নিষেধ’ সংবলিত সাইনবোর্ড এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেখানে রোড ডিভাইডার নেই, সেখানে অস্থায়ী ভিত্তিতে রোড ডিভাইডার স্থাপন করা হবে।

সভায় যানজট নিরসনে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি মোট ২১টি সুপরিশমালা উপস্থাপন করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাহ্ উদ্দিন আহমেদ। তাতে মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে বগুড়া শহরে মাটিডালি থেকে বনানী পর্যন্ত টাউন সার্ভিস বাস চালু এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে চলা করতোয়া নদীর দুই তীরে বিকল্প সড়ক নির্মাণ এবং রিকশাচালনাকে যাতে আর কাউকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে না হয়, সেজন্য দরিদ্র জনগণের জন্য ব্যাপক হারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।

বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা জানান, লাইসেন্সিংয়ের এই নীতিমালা অনুযায়ী কেবল যারা নিজেরাই মালিক ও চালক সেসব ইজিবাইককে রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হবে। আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।