জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) প্রতি সেমিস্টারে ভর্তি ও পরীক্ষার ফি অনলাইনে জমা দেওয়ার সময় কারিগরি জটিলতায় ব্যাপক বিড়ম্বনায় পড়েন শিক্ষার্থীরা। মূলত শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি লাঘব ও ফি জমাদানের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ফি প্রদানের ব্যবস্থা করেছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এতে ফল হয়েছে উল্টো। প্রতি মৌসুমে ফি প্রদানের সময় নানা কারিগরি জটিলতা দেখা দিলেও কার্যকর সমাধানের ব্যবস্থা নিচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেল, এমনটাই অভিযোগ করছেন শিক্ষার্থীরা। তবে আইসিটি সেলের দাবি, তারা যেকোনো সমাধানে সবসময় সচেষ্ট।
জানা যায়, ২০১৭ সালের শেষ দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ফি পরিশোধের জন্য রূপালী ব্যাংকের অনলাইন ব্যাংকিং সেবা শিওরক্যাশের মাধ্যমে টাকা জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তবে শিওরক্যাশের সেবা সব জায়গায় পাওয়া যায় না। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্ভারজনিত সমস্যা তো আছেই। পরবর্তীতে গত বছরের জুনে শিক্ষার্থীদের যাবতীয় ফি প্রদানে রকেট ও নগদের সাথে চুক্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে ৩টি অপারেটরের মাধ্যমে ফি প্রদানের ব্যবস্থা হলেও কার্যত কাটেনি ভোগান্তি। সার্ভার জটিলতার কারণে ফি প্রদানের বিষয়টি যথাযথভাবে হালনাগাদ হয় না। আবার কারিগরি সমস্যার কারণে ফি জমা দেওয়াও সম্ভব হয় না। এতে করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফি না দিতে পারার কারণে শিক্ষার্থীদের গুনতে হয় অতিরিক্ত জরিমানা।
নির্ধারিত সময়ের পর পরবর্তী প্রথম একমাসে বিলম্ব ফি’র পরিমাণ ৩শ টাকা, পরবর্তীতে প্রতিমাসে বিলম্ব ফি’র পরিমাণ হয় ১ হাজার টাকা।
গত ৩০ মে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এবারের গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে (৫-৯ জুন) ক্লাস বন্ধ থাকলেও চলবে সেমিস্টার পরীক্ষা। এরই ধারাবাহিকতায় সেমিস্টার পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের পাশাপাশি পরীক্ষা সহ যাবতীয় ফি প্রদানের নোটিশ দিয়েছে বিভাগগুলো। এক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ফি প্রদান করার ক্ষেত্রে পূর্বের ন্যায় এবারও ভোগান্তিতে পড়েছেন অধিকাংশ শিক্ষার্থী। কেউ পরীক্ষা ফি দিতে পারলেও দিতে পারছেন না ইম্প্রুভমেন্ট ফি। আবার কোনো কোনো বিভাগের কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী ভালোভাবে ফি প্রদান করতে পারলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই কয়েকবার চেষ্টা করে ফি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
সমস্যা সমাধানে অনেক শিক্ষার্থী ফি জমাদানসংক্রান্ত হেল্পলাইনের ইমেইলে (helpline@ictcell.jnu.ac.bd) বিষয়টি উল্লেখ করে মেইল পাঠালেও কোনো উত্তর আসছে না। আইসিটি সেলের কর্মকর্তাদের কাছে সাহায্য চাইলেও তারাও একজন অন্যজনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ আছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, সিস্টেম এমন হওয়া উচিত যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সবাই জটিলতা ছাড়াই যাবতীয় ফি মোবাইল ব্যাংকিংয়ে জমা দিতে পারে। অথচ বিড়ম্বনার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও গুনতে হচ্ছে আইটি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উচিত অতি দ্রুত বিষয়টির স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া।
এবিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য বলেন, প্রতিটি বিভাগ থেকে ফি জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় থাকে। সেই সময় পার হলে ফি জমা দেওয়া যায়না। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়েই ফি দিতে হবে। যেসব বিভাগের শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে ফি দিতে পারেনি তাদের জন্য সময় বৃদ্ধি করা হবে। এই সংক্রান্ত একটি নোটিশ দ্রুতই দেওয়া হবে।
আইটি জটিলতার বিষয়ে তিনি বলেন, এখন ১২ তালায় আইসিটি সেলের অফিস স্থানান্তর করা হয়েছে। আইসিটি সেলে সবাই সব কাজ করেনা। দায়িত্ব বন্টন করে দেওয়া থাকে। তাই সংশ্লিষ্ট দায়িত্বরত ব্যাক্তির মাধ্যমেই নির্ধারিত সমস্যা সমাধান করা হয়। আমরা চেষ্টা করছি শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূর করতে।