সপ্তম শ্রেণির পড়াশোনা: বাংলা প্রথমপত্র

যুগে যুগে শ্রমিকদের শ্রমে গড়ে উঠেছে নানা সভ্যতা| তারাই সভ্যতার প্রকৃত রূপকার| কিন্তু তাদের এই শ্রম ও ত্যাগ কেউ কখনো মূল্যায়ন করেনি বরং উপেক্ষিত হয়েছে

কবিতা: কুলি-মজুর 

নিচের উদ্দীপকটি পড়ো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও| জলিল মিয়া একজন বর্গাচাষী, সারাদিন মাঠে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ফসল ফলায়| কিন্তু ফসল ঘরে তোলার সময় জমির মালিক ফসলের তিন ভাগের দুই ভাগ নিয়ে যায়| বাকি এক ভাগ দিয়ে জলিল মিয়ার দুই মাসও চলে না| 
ক. বাষ্প শকট বলতে কী বোঝানো হয়েছে? 
খ. ‘শুধিতে হইবে ঋণ’- কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে? 
গ. উদ্দীপকে কুলি মজুর কবিতার কোন দিকটি প্রকাশিত হয়েছে তা ব্যাখ্যা করো? 
ঘ. উদ্দীপকে উল্লেখিত জমির মালিক শোষক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করছে-কুলি-মজুর কবিতার আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো| 

উত্তর ক. বাষ্প দ্বারা চালিত যান হল বাষ্প শকট| এখানে রেলগাড়িকে বোঝানো হয়েছে| কেননা রেলগাড়ি বাষ্প ইঞ্জিন দিয়ে চলতো| 
খ. ‘শুধিতে হইবে ঋণ’-কথাটি দ্বারা শ্রমজীবীদের শুভদিন আগমনের বিষয়টিকে বোঝানো হয়েছে| যুগে যুগে শ্রমিকদের শ্রমে গড়ে উঠেছে নানা সভ্যতা| তারাই সভ্যতার প্রকৃত রূপকার| কিন্তু তাদের এই শ্রম ও ত্যাগ কেউ কখনো মূল্যায়ন করেনি বরং উপেক্ষিত হয়েছে| ‘কুলি- মজুর’ কবিতায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম এইসব শ্রমজীবী মানুষের জয়গান গেয়েছেন| কবির মতে ধনিক শ্রেণির জমে থাকা ঋণ শোধ দেবার সময় এসেছে| শ্রমজীবীরা প্রতিবাদ করতে শিখেছে, সুতরাং তাদের প্রাপ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দেবার সময় এসেছে| তাই কবি উক্ত কথাটি উল্লেখ করেছেন| 

[গ এবং ঘ প্রশ্নের উত্তর শিক্ষার্থীরা উদ্দীপক ও বইয়ের সাথে মিলিয়ে নিজের মতো করে উপস্থাপন করবে যেখানে তার সৃজনশীলতার পরিচয় মিলবে| এখানে একটি নমুনা উত্তর দেয়া হলো] 

গ. উদ্দীপকে ‘কুলি-মজুর’ কবিতায় ফুটে ওঠা শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে| সভ্যতার বিনির্মাণে শ্রমিকদের অবদান সবচেয়ে বেশি| কিন্তু তারাই প্রতিনিয়ত ধনিক শ্রেণির নির্যাতনের স্বীকার হয়| কবি নজরুল ইসলাম তার ‘কুলি-মজুর’ কবিতায় ধনী শ্রেণির মানুষের মুখোশ উন্মোচন করেছেন| শ্রমজীবী মানুষের শ্রমের বিনিময়ে আমরা যাবতীয় আরাম আয়েশ ভোগ করছি, অথচ তাদের অবদানের কথা অস্বীকার করছি| উদ্দীপকে জলিল মিয়া ও জমির মালিক শ্রমজীবী ও বণিক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করছে| প্রচণ্ড পরিশ্রম করে জলিল মিয়া ফসল উৎপাদন করলে মালিক বেশির ভাগ অংশ নিয়ে যায় | পরিশ্রম করেও জলিল মিয়া ঠিকভাবে ফসল পায় না| জমির মালিক নির্বিকার প্রাপ্য ফসল থেকে জলিলকে বঞ্চিত করে| জলিল এর শ্রমে উৎপন্ন ফসল মালিক ভোগ করে| 

‘কুলি-মজুর’ কবিতায় কবি দেখিয়েছেন যে মজুরের শ্রমে বাষ্প ইঞ্জিন চলে সে মজুরকে বাবু ঠেলে ফেলে দিয়েছেন রেলের তলে| সভ্যতার এই বিশাল বিশাল অট্টালিকা তৈরি হয়েছে যাদের ঘামে তারা এই অট্টালিকায় থাকার সুযোগ পায় না, শিল্প কারখানা চলে শ্রমিকদের শ্রমে| কিন্তু সেই শিল্পকারখানায় উত্পাদিত পণ্য শ্রমিকরা ব্যবহার করতে পারে না| উদ্দীপকে কুলি-মজুর কবিতার বঞ্চনার এই দিকটি প্রকাশ পেয়েছে| ঘ এর উত্তর আগামীকাল।

লেখক: সিনিয়র শিক্ষক, শাহ্ গরীবুল্লাহ্ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, লালমনিরহাট