বাবা ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। বাবাকে দেখেছেন অফিস থেকে ভুল করে একটা কলমও যদি তিনি নিয়ে আসতেন, সেটা দিয়ে সন্তানদের লিখতে দিতেন না। তিনি বলতেন, ‘এটা সরকারি সম্পত্তি, ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের জন্য নয়।’ ছোটবেলা থেকে এই শিক্ষা নিয়ে প্রকৌশলী আব্দুল আজিজের বেড়ে ওঠা। সরকারি চাকরি ছেড়ে আমি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দিয়ে ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন আব্দুল আজিজ।
বর্তমানে তিনি টেকনিক্যাল এডুকেশন কনসোর্টিয়াম অব বাংলাদেশ (টেকবিডি)’র কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট ও ‘প্রফেশনাল ইনস্টিটিউট এসোসিয়েশন অব ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি’র প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও আমিষ ব্র্যান্ডের এগ্রো খামার, সফটওয়্যার কোম্পানি, টেস্ট্রি এবং সতেজ নামে আলাদা দুটি অর্গানিক এবং প্রসেসিং ফুড ব্র্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, মেট্রো সুপারশপ এবং রিটেইল বিজনেস, মিডিয়া, লজিস্টিকস কোম্পানি এবং আবাসন খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।
আসন্ন ই-ক্যাবের ২০২২-২৪ সালের ৪র্থ দ্বি-বার্ষিক কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বার্থে ‘ঐক্য’ নামে প্যানেল গড়ে তুলেছেন প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ। সদ্য গঠিত ‘ঐক্য’ প্যানেলে আছেন একঝাঁক তরুণ উদ্যোক্তা। তারা হলেন— প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ (যাচাই ডট কম লি.), মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম (অংশীদার-ক্রাফটসম্যান সল্যুশন), মো. তাজুল ইসলাম (আই এক্সপ্রেস লিমিটেড), আরিফ মোহাম্মদ আব্দুস শাকুর চৌধুরী (স্কুপ ইনফোটেক লিমিটেড), মো. সেলিম শেখ (নূরতাজ ডটকম বিডি), সামদানি তাব্রীজ (র্যাপিডো ডেলিভারিস), ইঞ্জিনিয়ার তৌহিদা হায়দার রিমা (মেনসেন মিডিয়া), মো. আরিফুল ইসলাম ডিপেন (পরান বাজার) এবং ছোফায়েত মাহমুদ লিখন (কোরিয়ান মার্ট বিডি)। ঐক্য প্যানেলের টিম লিডার যাচাই.কম লি.’র প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘আমরা আসন্ন ই-ক্যাব নির্বাচনে পরিচালক পদপ্রার্থী। তরুণ উদ্যোক্তাদের স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। ঐক্যের সাথে থেকে এগিয়ে চলতে চাই।’
একজন সংগঠক হিসেবে নিজের মূল্যায়নে প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ বলেন, ‘করোনাকালে যেসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আয় এবং বেতন বন্ধ যখন হয়ে গেছে, তখন আমি সংগঠনের সামনে থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সদস্যদের কল্যাণে কাজ করেছি। সেই সময় আমি ও সংগঠনের সদস্যরা পরিশ্রম করে বেসরকারি ইনস্টিটিউটগুলোর শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য সরকারের কাছ থেকে অর্থ অনুদান বরাদ্দ করতে সফল হয়েছি। আমার নিজের পাওয়ার কিছু নেই। আমি সবাইকে দিতে চাই। সততা আমার বড় শক্তি। আমি মনে করি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং নেতৃত্ব গুণাবলীর কারণে ই-ক্যাবের সম্মানিত সদস্যরা আমাকে নির্বাচিত করলে ই-ক্যাব এবং ই-ক্যাবের সদস্যদের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারব। সেই সাথে ই-কমার্স সেক্টরের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও ই-কমার্স সেক্টরের দক্ষ জনশক্তির ঘাটতি পূরণ করা আমার লক্ষ্য। এ ছাড়া ভোক্তা চাহিদা পূরণ করে ই-কমার্স খাতকে আরও বেশি গ্রাহকবান্ধব করে দেশের অর্থনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার স্বপ্ন দেখি।’