সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে । জেলার চৌহালী উপজেলার দেওয়ানগঞ্জ পাকা রাস্তার মাথায় ঘূর্ণাবর্তে মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়েছে পাঁচটি বসতভিটা ও দুটি তাঁত কারখানা। ভাঙনের হুমকির মুখে পড়েছে বহু ঘরবাড়ি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। চৌহালীর বাঘুটিয়া ইউনিয়নের দেওয়ানগঞ্জের পাকা রাস্তার মাথায় নদীভাঙন এলাকায় দেখা যায়, চোখের সামনে বসতভিটা নদীতে চলে যাচ্ছে। কেউ ঘরের খুঁটি খুলছেন, কেউবা টিনের চাল সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। আর নারীরা কাপড় চোপড়, বিছানাপত্র ও রান্নার জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছেন নিরাপদ স্থানে।
জানা যায়, যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও কমার সময় দফায় দফায় এসব এলাকায় ভাঙন শুরু হয়। হঠাৎ করে সোমবার থেকে যমুনা নদীতে স্রোত ও ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। জানা গেছে, এলাকার বাসিন্দা আমোদ আলী, আবুল কালাম, রুহুল আমিন, ইদ্রিস আলী, তারা মিয়া ও শাহ আলমের বসতভিটা ও দুইটি তাঁত কারখানা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কালাম মোল্লা জানান, ব্যাপকভাবে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। একদিকে কাজ চলছে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের। অপরদিকে হঠাৎ করে পাঁচটি বসতভিটা ও তাঁত কারখানা নদীতে চলে যাওয়ায় আমরাও আতঙ্কিত। আশা করছি দ্রুতই ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, সেইসঙ্গে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত সব অসহায় পরিবারকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল ওহাব জানান, চৌহালীর দক্ষিণাঞ্চলে চর ছলিমাবাদ এলাকায় ভাঙন রোধে জরুরী ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে দেওয়ানগঞ্জের নদীভাঙনে বসতভিটা বিলীনের বিষয়টি জেনেছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।