জাল-জালিয়াতি রোধে ৬ মাস পরপর গ্রাহককে হিসাব বিবরণী দিতে হবে

জাল-জালিয়াতি রোধে এখন থেকে আমানতসহ লেনদেনের হিসাব বিবরণী গ্রাহককে দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে ছয় মাস পরপর গ্রাহককে হিসাব বিবরণী দিতে হবে। গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়েছে। নতুন নির্দেশনা মতে, হিসাবের বিবরণী ইমেইল, ডাক ও কুরিয়ারে পাঠাবে ব্যাংক। আর গ্রাহকের হিসাবে লেনদেনের তথ্য তাত্ক্ষণিকভাবে মোবাইল বার্তা দিয়ে জানাতে হবে। ব্যাংকগুলোকে এ সেবার জন্য চার্জ না নিতে বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ব্যাংকের আমানত ও ঋণ হিসাবধারী প্রত্যেক গ্রাহককে অর্ধ-বার্ষিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে অর্থাৎ বছরে দুবার ‘লেনদেন বিবরণী’ ও ‘স্থিতি নিশ্চিতকরণ সনদ’ ইমেইল/ডাক/কুরিয়ারযোগে আবশ্যিকভাবে প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এতদ্ব্যতীত কোনো ধরনের চার্জ আদায় ব্যতিরেকে এসএমএসের মাধ্যমে ‘লেনদেন বিবরণী’ ও ‘স্থিতি নিশ্চিতকরণ সনদ’ প্রেরণের বিষয়টি গ্রাহককে অবহিত করতে হবে। তবে গ্রাহক সশরীরে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট শাখায় গমনপূর্বক উক্ত বিবরণী/সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন। উভয় ক্ষেত্রে কোনোরূপ চার্জ বা ফি আদায় করা যাবে না।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, হিসাব খোলার ফরমে গ্রাহক কর্তৃক প্রদত্ত মেইলিং ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরের সঠিকতা যাচাই করতে হবে এবং ন্যুনতম বার্ষিক ভিত্তিতে তা হালনাগাদ করতে হবে। হিসাব সম্পর্কিত প্রতিটি লেনদেন তাত্ক্ষণিকভাবে গ্রাহককে এসএমএসের মাধ্যমে অবহিতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ব্যাংকের নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে গ্রাহককে তথ্য ও সেবা প্রদান করা যাবে। তবে তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং মোবাইল অ্যাপস ব্যতীত সোশ্যাল মিডিয়াসহ অন্য কোনো মাধ্যম ব্যবহার হতে বিরত থাকতে হবে। তাছাড়া গ্রাহককে প্রেরিত ‘লেনদেন বিবরণী’ ও ‘স্থিতি নিশ্চিতকরণ সনদ’ এর অনুলিপি হার্ডকপির পরিবর্তে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা যাবে।