শিক্ষার্থী ও তরুণদের সবসময় চামচ দিয়ে খাইয়ে দেওয়ার দরকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সবসময় চামচ দিয়ে খাইয়ে দেওয়ার দরকার নেই। তারা নিজেদের মতো করে বড় হলে দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জন করতে পারবে।’ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা নিজ দায়িত্বে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সংস্কৃতির মধ্যে বেড়ে উঠলে তারা স্বাবলম্বী, দক্ষ ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে বলে উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে উপাচার্য এসব কথা বলেন। এদিন সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দেশের ৮ বিভাগীয় শহরে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অধ্যাপক আখতারুজ্জামান ভর্তি পরীক্ষা ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন ও অনুষ্ঠিত হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করে সুশৃঙ্খলভাবে এই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদানে শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ নিয়োজিত রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে অংশগ্রহণের জন্য পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার মধ্যে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।’ ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্রে আসা ও অংশগ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, জনসমাগম ও পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে এবং যানবাহন চলাচল সীমিত রাখার জন্য অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের প্রতি উপাচার্য আহ্বান জানান।
অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে আমরা খবর পেয়েছি, তারা কোনও ধরনের সমস্যা ছাড়া যথাযথভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করছেন। আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও কথা বলেছি, প্রশ্নপত্রের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছে।’
উপাচার্য বলেন, ‘এ ইউনিটেই পরীক্ষার্থী সবচেয়ে বেশি। এখানে ১ হাজার ৮৫১টি আসনের বিপরীতে প্রায় ১ লাখ সাড়ে ১৫ হাজার পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। ঢাকায় প্রায় ৬৩ হাজার এবং বাকি ৫৩ হাজার ঢাকার বাইরে পরীক্ষা দিচ্ছে। সব মিলিয়ে এই ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় একটি তুমুল প্রতিযোগিতা হবে। এটার (ক-ইউনিট) পরিধি অনেক বড়।’
অভিভাবকদের ক্যাম্পাসে ভিড় না করার অনুরোধ জানিয়ে উপাচার্য বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিজেদের মতো করে বড় হতে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। তাদের (পরীক্ষার্থী) সবার বয়স আঠারো বছর, তারা প্রত্যেকেই খুবই বুদ্ধিমান ও দক্ষতাসম্পন্ন। সমাজ, মানুষ, জাতি, সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের নানাভাবে পরিচয় ঘটুক। এতে করে তারা দক্ষ গ্র্যাজুয়েট হওয়ার জন্য শক্তি পাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশকে চিনুক, মানুষের সঙ্গে মিশুক। এই মিথষ্ক্রিয়া প্রয়োজন আছে। এটি যখন যে নিজে থেকে করবে তখন তার দক্ষতা, মনোবল ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং শিক্ষার্থীদের সবসময় অভিভাবকদের চামচ দিয়ে খাইয়ে দেওয়ার দরকার নেই। এখন যেহেতু তাদের বয়স হয়েছে, সেহেতু তাদের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিজেদের মতো কাজ করলে তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার পথ তৈরি হবে।’