পদ্মা মূল সেতুতে ৪১৫টি ল্যাম্পপোস্টের বাতির মধ্যে ৩৫৮টি জ্বালিয়ে ট্রায়াল দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সেতুর দুই প্রান্তের ৪২টি এবং মাওয়া ভায়াডাক্টে ২০টি বাতি পরীক্ষামূলকভাবে জ্বালানো হয়। মাওয়া প্রান্তের ১ নম্বর মডিউলে এবং জাজিরা প্রান্তে ৭ নম্বর মডিউলে ও মাওয়া ভায়াডাক্টের পূর্ব পার্শ্বে এই বাতিগুলো জ্বালিয়ে ট্রায়াল দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৫৮টি বাতি পরীক্ষামূলকভাবে জ্বালানো হয়। মূল সেতুর বাকি ৫৭টি জ্বালানো শেষেই পুরো ৪১৫টি বাতি একযোগে জ্বালানো হবে।
একে একে বাতিগুলো প্রতিদিনই জ্বালানো হচ্ছে। এর আগে গত বুধবার ৬৪টি বাতি, মঙ্গলবার ১৪৮টি বাতি, সোমবার ৪২টি বাতি, রবিবার ১৮টি বাতি এবং ১ম দিন শনিবার ২৪টি বাতি জ্বালিয়ে ট্রায়াল দেওয়া হয়। সেতুর রোড মার্কিং এখন একেবারেই শেষ পর্যায়। বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। পদ্মা সেতুর স্বপ্নদ্রষ্টা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ম্যুরাল স্থাপনের কাজ পুরোদমে চলছে। ইলিশের ভাস্কর্য স্থাপনের কাজ আরো এগিয়েছে। সেতুর রেলিং বসানোর কাজও বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তের নতুন দুই থানা আগামী ১৯ জুন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে। মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উত্তর থানার পূর্ব পাশে টোল প্লাজার সামনে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সুধী সমাবেশের প্যান্ডেল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
পদ্মায় নির্মিত টিএল প্ল্যাটফরম হস্তান্তর
পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের আওতায় পদ্মায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের প্ল্যাটফরম নির্মাণ শেষ হয়েছে। সর্বশেষ মাঝিরকান্দি prante ১০ নম্বর প্ল্যাটফরমটি সেতু কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে। এখন আমিন বাজার-মাওয়া-মোংলা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলছে অধিক উচ্চতার টাওয়ার নির্মাণকাজ। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে টিজিসিবি। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ ফেরদৌস জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের আওতায় এই টাওয়ারের প্ল্যাটফরম নির্মাণের ফলে আমিন বাজার-মাওয়া-মোংলা ৪০০ কেবি সঞ্চালন লাইন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে জাতীয় গ্রিড সরাসরি সংযুক্ত হচ্ছে।
পায়রা ও রামপাল কেন্দ্রের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে এই লাইনেই। পদ্মায় সাতটি প্ল্যাটফরম নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮১৩ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পদ্মা বহুমুখী সেতু শুধু সড়ক সংযোগ করবে তা নয়, এর মাধ্যমে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের আওতায় আসবে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সেতুর নিচ দিয়ে টানা হচ্ছে গ্যাস লাইন। সেই সঙ্গে নেওয়া হবে অপটিক্যাল ফাইভার।