আর মাত্র আট দিন পর অর্থাত্ ২৫ জুন বহুল প্রতীক্ষিত পদ্মা বহুমুখী সেতুর উদ্বোধন হইবে। সমগ্র জাতি এই সেতু উদ্বোধনের জন্য অধীর অপেক্ষায় রহিয়াছে। সরকারও পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের জন্য উচ্ছ্বসিত। হইবারই কথা। বহু ঘাম, পরিশ্রম, প্রচেষ্টা ও চ্যালেঞ্জ জড়াইয়া আছে এই সেতুর সহিত। উন্নয়নশীল একটি দেশে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সেতু পদ্মার মতো খরস্রোতা নদীর উপর নির্মাণ করা মুখের কথা নহে। ইহার পাশাপাশি পদ্মা সেতু নির্মাণ করিতে গিয়া নানামুখী বাধাও অতিক্রম করিতে হইয়াছে। সরকারের জন্য শুধু প্রয়োজনীয়তাই নহে, ইহা একপর্যায়ে নির্মাণ করা একটি চ্যালেঞ্জ হইয়া দাঁড়াইয়াছিল। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে প্রাক-সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষার মাধ্যমে পদ্মা সেতু প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। সেই উদ্যোগের অনেকে হয়তো এখন দৃশ্যপটে নাই; কিন্তু তখন দেশের সরকারপ্রধান ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই। ২০০১ সালের অক্টোবরে নির্বাচনে পরাজয়ের পর এই সেতুর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব মম্হর হইয়া যায়। পরবর্তীকালে ২০০৯ সালে নির্বাচনে বিজয়ের পর মহাজোট সরকার গঠন করিবার মাত্র ২২ দিনের মাথায় পদ্মা সেতুর পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরির জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রায় একই সময়ে সরকার জমি অধিগ্রহণও শুরু করে। আর পিছনে ফিরিয়া তাকাইতে হয় নাই।
স্বভাবতই নিরাপত্তার প্রশ্নটি আসিবে। ১০ লক্ষ মানুষকে একদিনের একটি অনুষ্ঠানে স্ক্যানিংয়ের আওতায় আনা সম্ভব নহে। কে, কোথা হইতে আসিবে, কাহার পরিচয় কী— তাহাও নজরে রাখা সম্ভব নহে। তাহা হইলে নিরাপত্তা কীভাবে শতভাগ নিশ্চিত করিবেন— তাহা লইয়া সংশ্লিষ্টদের ভাবিতে হইবে। ইহার সহিত আরো একটি বিষয় নজরে রাখা প্রয়োজন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আবার করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়িতে শুরু করিয়াছে। অর্থাত্ এই সংক্রামক ব্যাধি পৃথিবী হইতে পুরাপুরি বিতাড়িত হয় নাই। বাংলাদেশে পরিস্হিতি অনেকটাই স্বাভাবিক থাকিলে কিছুদিন ধরিয়া অল্প অল্প করিয়া বাড়িতেছে। সুতরাং সতর্কতার প্রয়োজন এখনো শেষ হইয়া যায় নাই। আমরা চাই পদ্মা সেতুর উদ্বোধন নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর হইয়া উঠুক। পদ্মা সেতুর জন্য সার্বিক ও সর্বোপরি শুভ কামনা।