দাকোপে বিভিন্ন নদনদীতে আহরণ করা হচ্ছে গলদা চিংড়ির রেণু পোনা। অসাধু লোকজন নিষিদ্ধ ‘নেটজাল’ দিয়ে এই পোনা আহরণ করছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েক লাখ মিটার নেটজাল জব্দ করলেও থেমে নেই রেণু পোনা আহরণ। ফলে চিংড়ির পোনার সঙ্গে দেশীয় প্রজাতির অন্যান্য মাছের পোনাও বিলুপ্ত হচ্ছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় উপজেলার কাজীবাছা, পশুর, চুনকুড়ি, ঢাকি, কালাবগী, শিপসাসহ বিভিন্ন নদীতে গলদা চিংড়ির এই রেণু পোনা আহরণ চলছে। এতে একটি রেণু পোনা আহরণ করতে গিয়ে শতাধিক প্রজাতির মাছের পোনা নিধন হচ্ছে। স্থানীয় মৎস্য বিশেষজ্ঞদের এক সমীক্ষায় জানা গেছে, প্রতিটি চিংড়ির রেণু পোনার সঙ্গে অন্য প্রজাতির অন্তত ১২০টি পোনা নিধন হয়। তাদের মতে, নেটজাল টেনে তীরে উঠিয়ে বেছে বেছে চিংড়ির রেণু পোনা রেখে অন্য পোনা ফেলে দেয় তীরে, যা পরে কাকের খাবারে পরিণত হয়। আহরণ করা এসব রেণু পোনা আবার প্রকাশ্যে সদর চালনা বাজারসহ বিভিন্ন আড়তে বেচাকেনাও হচ্ছে।
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লে. কমান্ডার লুত্ফর রহমান বলেন, গত এক মাসে দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন এরিয়া থেকে অভিযান চালিয়ে ৪ লাখ ৭১ হাজার মিটার নেটজাল জব্দ করা হয়েছে, যা পরে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। আর স্থানীয় যে চক্র প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করছে, তাদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান জানান, নদীতে নিষিদ্ধ নেটজাল দিয়ে কোনো প্রকার মাছ ধরা যাবে না। তাই কম্বিং অভিযানে ৩৮টি মোবাইলকোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড় বলেন, নেটজাল সরকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। নেটজাল বন্ধ করতে পারলে মাছের প্রজনন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।