সুনামগঞ্জে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়া সাধারণ মানুষদের জন্য ঈদের উপহার নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৩ জুলাই) থেকে সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বন্যাদুর্গতদের ঈদ উপহার দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
এই কার্যক্রমের সাথে জড়িত পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মফিদুল ইসলাম বলেন, বন্যার পানি নেমে গেলেও পুরা সিলেট বিভাগের মানুষের ক্ষত এখনো শুকিয়ে উঠেনি। বন্যার কারণে অনেক মানুষেরই ঘর-বাড়ি, গবাদি পশু, ফসল হারিয়ে এখন মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিভিন্ন জায়গাতে অনেক মানুষ ত্রাণ দিয়েছেন কিন্তু এই মুহূর্তে বন্যাদুর্গত মানুষের আর্থিক সহযোগিতা বেশি প্রয়োজন। আমরা ইতোমধ্যে ৪০০ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করেছি। পাশিপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অনেক শিক্ষার্থীর পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, আমরা সেই পরিবারগুলোকেও সহায়তা করতে চেষ্টা করেছি। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত আরও কিছু পরিবারকে এই সহায়তা করতে চেষ্টা করবো।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবগুলো সংগঠন যখন সিদ্ধান্ত নেয় বন্যাদুর্গতদের সাহায্য করবে তখন পুরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে। সকলের সার্বিক সহযোগিতায় আজকে আমরা অনেকগুলো মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাতে সক্ষম হয়েছি।
রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান ইত্তেফাককে বলেন, সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর বন্যাদুর্গত অনেক মানুষের কাছেই পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছেনি। সে কারণে আমরা চেষ্টা করেছি সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষগুলোর কাছে সহায়তা পৌঁছাতে। আমরা প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, তাহিরপুর, দিরাই, ছাতক উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে গিয়ে অধিক ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করি। এরপর আমরা এক এক করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর কাছে আর্থিক পৌঁছে দিতে শুরু করি। আমাদের এই কার্যক্রম ঈদের আগের দিন পর্যন্ত চলছে। ঈদের পরেও কিছু পরিবারকে সহায়তা করার পরিকল্পনা আমাদের আছে।