ঈদের ছুটি শেষে নমুনা পরীক্ষা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৈনিক শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। স্বাস্হ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ১৩১টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ৩২৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, মৃতু্য হয়েছে ছয় জনের। আগের দিন ৭ হাজার ৪৪৮টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছিল, তাতে ১ হাজার ২৭ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়, সারা দেশে মৃতু্য হয় পাঁচ জনের। এক দিনের ব্যবধানে দুই সংখ্যাই বেড়েছে।
ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস ৭ ?জুলাই ১০ হাজার ৮২২টি নমুনা পরীক্ষা করে ১ হাজার ৭৯০ জনের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ার কথা জানিয়েছিল স্বাস্হ্য অধিদপ্তর। এরপর ঈদের ছুটির কারণে নমুনা পরীক্ষা কমে যায়। সেই সঙ্গে শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও নেমে আসে হাজারের নিচে। গত তিন দিন ধরে তা আবার বাড়ছে। গত এক দিনে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার কমে হয়েছে ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ, আগের দিন এই হার ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ ছিল। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে শনাক্ত মোট কোভিড রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৯ লাখ ৯৩ হাজার ৩৮২ জন হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৯ হাজার ২২৩ জনের মৃতু্য হয়েছে করোনা ভাইরাসে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ১,৭৪৭ জন কোভিড রোগীর সেরে ওঠার তথ্য দিয়েছে স্বাস্হ্য অধিদপ্তর। তাদের নিয়ে এ পর্যন্ত সুস্হ হলেন ১৯ লাখ ১৯ হাজার ১৬৬ জন। নতুন শনাক্ত ১,৩২৪ জনের মধ্যে ৭২১ জনই ঢাকা জেলার বাসিন্দা। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৯ জেলাতেই গত এক দিনে নতুন রোগী ধরা পড়েছে। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৪৭। গত এক দিনে মারা যাওয়া তিন জন ছিলেন ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা, বাকি তিন জন ময়মনসিংহ বিভাগের। তাদের চার জন পুরুষ, দুই জন নারী।
কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কার্যক্রম জোরদার করার জন্য আগে তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ সপ্তাহ পালন করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৯ জুলাই দেশব্যাপী কোভিড ভ্যাকসিন বুস্টার ডোজ দিবস উদ্যাপন করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্হ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার স্বাস্হ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. শামসুল হকের সই করা এক নির্দেশনায় এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিদিন নির্দেশনায় কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন সমন্বয় কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সবার সঙ্গে সমন্বয়পূর্বক ব্যাপক প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে বুস্টার ডোজ দিবস পালন করা এবং সকলের প্রাপ্য বুস্টার ডোজ প্রদানের ব্যবস্হা গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে।
স্বাস্হ্য অধিদপ্তর জানায়, এই দিবসের আওতায় ১৮ বছর ও তদূর্ধ্ব সকল নাগরিককে তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজ কোভিড ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। এজন্য ফাইজারের টিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ডোজ গ্রহণের চার মাস পর বুস্টার ডোজ নেওয়া যাবে। বুস্টার ডোজ ভ্যাকসিন গ্রহণের জন্য উপযুক্ত প্রমাণ প্রদর্শন সাপেক্ষে (কোভিড-১৯ টিকার কার্ড বা সনদ) নিকটবর্তী টিকাদান কেন্দ্র বা বাংলাদেশের যে কোনো কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন টিকাদান কেন্দ্র হতে বুস্টার ডোজ গ্রহণ করা যাবে। সকাল ৯টা থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হবে। নিয়মিত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন ১ম ও ২য় ডোজ ভ্যাকসিন দেওয়ার স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান রেখে নিম্নলিখিতভাবে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন বুস্টার ডোজ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্হ্য অধিদপ্তর।