শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ সদরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকহারে গরুর ল্যাম্পি স্কিন রোগ দেখা দিয়েছে। গত এক সপ্তাহে শাহজাদপুরে এ রোগে অন্তত দুই শতাধিক গরু আক্রান্ত হয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত গরুর সংখ্যা।
কোরবানির ঈদের আগে হঠাৎ এ রোগ দেখা দেওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন গোখামারি ও ব্যাক্তি উদ্যোগে গরু লালন-পালনকারী কৃষকরা। ভ্যাকসিন প্রয়োগের পরেও অনেক গরুর শরীরে এ রোগ দেখা দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।
শাহজাদপুর উপজেলা প্রানিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ২ লাখ ৮০ হাজার গরু লালনপালন করা হচ্ছে। এখানে গোখামার রয়েছে প্রায় ৭ হাজার। এ বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গোখামারি ও প্রান্তিক কৃষকরা ৭০ হাজার ষাঁড় গরু লালনপালন ও মোটা তাজা করে প্রস্তুত করেছে। কিন্তু কোরবানির আগে হঠাৎ এ রোগ দেখা দেওয়ায় তারা তাদের গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে।
ছোট চামতারা গ্রামের ইয়ামিন মোল্লা জানান, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে তিনি এক বছর আগে দুইটি ষাঁড় গরু ২ লাখ টাকা দিয়ে কিনে লালনপালন করছেন। এ দুই গরুর খাওয়া খরচ বাবদ এক বছরে আরো ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আশা করছেন হাটে দুইটি গরু ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে গরু দুইটি ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এ রোগের চিকিৎসায় তার অতিরিক্ত টাকা খরচ হয়। এখন গরুর প্রকৃত দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।
পোতাজিয়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, এ গ্রামের গোখামারি ফরহাদ হোসেনের পাঁচটি গরু, গোলাম মোরশেদের একটি ও মানিক ব্যাপারীর একটি গরু ল্যাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
এ বিষয়ে পোতাজিয়া গ্রামের পশু চিকিৎসক সাইদুল ইসলাম জানান, গত এক সপ্তাহে পোতাজিয়া ও এর আশপাশের এলাকায় অন্তত দুই শতাধিক গরু এ রোগে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে চিকিৎসায় অর্ধেক ভালো হয়েছে। বাকি অর্ধেকের চিকিৎসা চলছে।
শাহজাদপুর উপজেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘নতুন এ রোগটি দেখা দেওয়ায় কৃষকরা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ক্ষতি কমিয়ে আনতে আমরা দ্রুত চিকিৎসা দিয়ে আক্রান্ত গরুগুলোকে সুস্থ করে তুলছি। এ রোগ যাতে আর ছড়াতে না পারে, সে জন্য আমরা ইতিমধ্যেই সুস্থ গরুগুলোকে ভ্যাকসিন দিয়েছি। আশা করছি, ঈদে এর তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না।’
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রানিসম্পদ কর্মকর্তা গৌরাঙ্গকুমার তালুকদার ল্যাম্পি স্কিন রোগ বিস্তারের কথা স্বীকার করে বলেন, শাহজাদপুর ও রায়গঞ্জের কিছু এলাকায় এই রোগ দেখা দিয়েছে। বড় গরুর পাশাপাশি ছোট ছোট বাছুর গরু এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। রোগ যাতে বিস্তার লাভ না করে, এজন্য টিকাদান প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।