নিরাপত্তাহীনতায় শিক্ষকের পরিবার

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে একটি অভিযোগের তদন্ত করতে বিদ্যালয়টিতে যান শিক্ষা কর্মকর্তা। তার উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সাবেক সভাপতি তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা চালায়। এ মর্মে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে সেদিন সন্ত্রাসীদের ভয়ে ও চাপের মুখে তদন্ত না করেই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরে আসেন। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

গত বুধবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আদাবাড়ি গহের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে অসহায় ঐ সহকারী প্রধান শিক্ষক ও তার পরিবার। সন্ত্রাসীদের ভয়ে আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছে না ঐ শিক্ষকের পরিবার।

এ ব্যাপারে ওই সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ (৪৮) উপজেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মশিউর রহমান ও সভাপতি মো. শামসুল আলম কোরাম সংকট থাকা সত্বেও নিজেদের ক্ষমতাবলে প্রথমে সাময়িক ও পরে স্থায়ী ভাবে বরখাস্ত করেন সহকারী প্রধান শিক্ষককে। এ নিয়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও চাপা ক্ষোভ দেখা দেয়। ফলে গত কয়েক মাস বিদ্যালয়ে অচলাবস্থা বিরাজ করে। 

অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সিন্ডিকেট করে নানা অনিয়ম দুর্নীতি করে আসছে। তাদের রোষানলের শিকার সহকারী প্রধান শিক্ষক  আবুল কালাম আজাদ অসহায় হয়ে পড়েন। সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে পুনর্বহাল ও ন্যায় বিচারের দাবিতে সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঘটনার তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর রশিদকে নির্দেশ প্রদান করেন। নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে বুধবার তিনি ঘটনা তদন্তের জন্য আদাবাড়ি গহের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে যান। তার উপস্থিতিতে প্রধান শিক্ষক মো. মশিউর রহমান ও সাবেক সভাপতি মো. শামসুল আলমসহ তাদের বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদের ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে জামা-কাপড় ছিড়ে ফেলে। ভয়ে তিনি পালিয়ে গিয়েও সন্ত্রাসীদের মারপিট থেকে রক্ষা পাননি বলে অভিযোগ করেন। 

অবস্থা বেগতিক দেখে উপজেলা শিক্ষা অফিসার তদন্ত না করেই দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।শুধু তাই নয় প্রধান শিক্ষক মো. মশিউর রহমান ও সাবেক সভাপতি মো. শামসুল আলমসহ তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হারুন অর রশিদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেককে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজও করে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তদন্ত সুষ্ঠু হবে না বিধায় ভুল বোঝাবুঝির কারনে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে আদাবাড়ি গহের আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে তদন্তে গেলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমান ও সাবেক সভাপতি শামসুল আলম অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে সরকারী কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে।এ ছাড়া সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের ওপর হামলা করেছে।ফলে তদন্ত না করেই চলে এসেছি। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবদুল মালেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষা অফিসার ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত অবগত হয়েছি।দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু