স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে জয়পুরহাটের একটি আদালত। রবিবার (২৪ জুলাই) অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. গোলাম সারোয়ার আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- জেলার পাঁচবিবি উপজেলার গোহারা (দামপাড়া) গ্রামের আনসার আলীর ছেলে নয়ন (৪২)। আসামির মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসারে গলায় ফাঁসি দিয়ে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে এ রায়ে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গোহারা (দামপাড়া) গ্রামের আনসার আলীর ছেলে নয়নের সঙ্গে ঢাকারপাড়া মহল্লার মোকছেদ মণ্ডলের মেয়ে রেশমা ওরফে ফুরকুনির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্ত্রী রেশমার উপর নির্যাতন চালাতে থাকে স্বামী নয়ন। এক পর্যায়ে ২০০২ সালের ৯ নভেম্বর বিকাল বেলা রেশমাকে লাঠি দিয়ে মারপিট করে গলা চেপে ধরে পাশের পুকুরে ফেলে দেয়। পরিবারের লোকজন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে রেশমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। পরের দিন আবার রেশমাকে মারপিট করলে বেলা ৩ টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে রেশমা। এ ঘটনায় বড় ভাই আবির মণ্ডল বাদী হয়ে ৩০২ ধারায় পাঁচবিবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাঁচবিবি থানার এস আই আব্দুস সাত্তার ২০০৩ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে আসামি নয়নকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত এ মামলায় ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো: গোলাম সারোয়ার আজ স্ত্রী রেশমাকে হত্যা মামলায় ৩০২ ধারা মোতাবেক মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন। এ সময় আদালতে থাকা আসামি নয়নকে স্বাভাবিক দেখা যায়।
সরকার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এপিপি এ্যাড: গকুল চন্দ্র মণ্ডল ও আসামি পক্ষে ছিলেন এ্যাড: হাসান আলী ও আবু কাইসার। মামলার রায়ে খুশি বলে জানান, মামলার বাদী রেশমার বড় ভাই আবীর হোসেন। উচ্চতর আদালতে আপিল করার কথা জানান, আসামি পক্ষের আইনজীবী এ্যাড: হাসান আলী।