একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া) আসনে ৬ষ্ঠ বারের মতো মনোনয়নপত্র জমা দিলেন নির্বাচন পাগল সুধীর বিশ্বাস। ৫টি নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার পরও তিনি মনোয়নয়নপত্র দাখিল করেছেন।
তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের জনক উপজেলার দাউদখালী ইউনিয়নের গিলাবাদ গ্রামের সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস (৬০)। গত বুধবার সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিএম সরফরাজের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর থেকেই তাকে নিয়ে সর্বত্র আলোচনার ঝড় বইছে।
উল্লেখ্য, কখনো নিজের ভোটটি ছাড়া প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীদের ভোট পায়নি সুধীর বিশ্বাস।
সুধীর রঞ্জন বিশ্বাস জানান, ৩০ বছর আগে তার স্ত্রী অঞ্জলী রানী বিশ্বাস ইউপি সদস্য পদে নির্বাচনে হেরে মারা যান। তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে তার আত্মার সন্তুষ্টির জন্যই নির্বাচন করে আসছেন।
নিজেকে তিনি একজন গ্রাম্য চিকিৎসক দাবি করে বলেন, 'রোগীদের চিকিৎসাপত্র দিয়ে জমিয়ে রাখা ৭ হাজার টাকা ও বাড়ির দুটি রেইনট্রি গাছ বিক্রির ২৩ হাজার টাকা মোট ৩০ হাজার টাকা দিয়ে এ বছর মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছি।'
তিনি আরও বলেন, 'এবার আমি ইলিশ মাছ প্রতীক বরাদ্দ চেয়েছি। এলাকায় একজন পল্লী চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবা করে আসছি। প্যরালাইসিস, স্ট্রোক আর বাতের মতো জটিল চিকিৎসায় বহু মানুষকে সুস্থ করেছি। আর এ চিকিৎসা আমি মানুষের সেবক হিসেবে বিনামূল্যে করছি। আমি কারও ওপর নির্ভরশীল হয়ে বাঁচতে চাই না। আমার প্রয়াত স্ত্রী অঞ্জলি ইউনিয়ন পরিষদে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিল। তার স্মৃতি রক্ষায় মৃত্যু অবধি আমি এমপি নির্বাচন করে যেতে চাই।'
এ বিষয়ে স্থানীয় দাউদখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফজলুল হক খান বলেন, 'সুধীর রঞ্জন আমার ই্উনিয়নের বাসিন্দা। ভোটে দাড়ানোর অধিকার তার আছে। তবে এই বৃদ্ধ প্রকৃতঅর্থে স্বাভাবিক মানুষ নন। এলাকায় তিনি নির্বাচন পাগল বলে পরিচিত প্রতিবার সংসদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়ে আলোচন সৃষ্টি করেন।'
উল্লেখ্য, পিরোজপুর-৩ মঠবাড়িয়া একক আসনে এবার স্বতন্ত্র সুধীর রঞ্জনসহ ১৩জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
ইত্তেফাক/নূহু