বাঙালি সংস্কৃতিজুড়ে পাঞ্জাবি
প্রাচীনকালে পাঞ্জাব অঞ্চলের অধিবাসীরা হাটু পর্যন্ত কাপড় পরিধান করত। তাদের সেলাই ছাড়া গায়ে জড়িয়ে রাখা সুতি কাপড়ই কালের বিবর্তনে রূপ নিয়েছে আজকের পাঞ্জাবিতে। উৎপত্তিস্থল না হয়েও বাঙালি সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য পরিধেয় বস্ত্র 'পাঞ্জাবি'। যেকোনো উৎসব অনুষ্ঠানে বয়সের বিভেদ ভুলে পুরুষের গায়ে শোভা পায় পাঞ্জাবি। নানান রঙ-ঢঙ, কারুকাজ তরুণ প্রজন্মের কাছে পাঞ্জাবিকে করেছে অত্যধিক জনপ্রিয়। শাড়িতে যেমন যেকোনো নারীর সৌন্দর্য ফুটে ওঠে, ঠিক তেমনি পাঞ্জাবি পুরুষের রুচিবোধ ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি তাকে আকর্ষণীয় করে তোলে।
বিয়ে, গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে যেকোন উৎসব পার্বনে পাঞ্জাবির গ্রহণযোগ্যতা বেড়েই চলছে। ফ্যাশন সচেতনতার ভাবনা থেকেও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ প্রজন্ম পোশাক হিসেবে পাঞ্জাবিকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
—নাজমুস সাকিব সালেহ আব্দুল্লাহ, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
শাড়ির ঐতিহ্যে নুয়ে পড়ুক বিদেশি পোশাকের মোহ
কথায় আছে, 'নারীর কাছে এখনো শাড়ির আবেদন ততখানি যতখানি প্রেমিকের কাছে তার খোলা চুলের'। শাড়ি নারীর জীবনে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। শাড়ি পছন্দ করে না এমন নারীর সংখ্যা কম। তবে অনেক্ষেত্রেই দেশীয় বস্ত্রের পরিবর্তে স্থান দখল করে নিয়েছে বিদেশি বস্ত্র দিয়ে তৈরিকৃত শাড়ি, থ্রিপিসসহ অন্যান্য পোশাক।
আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই বিদেশি পোশাক ব্যবহারের মোহ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য দেশীয় পোশাকের নিজস্বতা ধরে রাখা প্রয়োজন। তাই ঐতিহ্যকে লালন করার নিমিত্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সকল অনুষ্ঠানে শাড়ি পরার চেষ্টা করি।
—ফারহানা ইয়াসমিন, শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।
'শাড়িতেই বাঙালি নারীর পরিচয়'
'বাঙালি বাড়ির বৌ হয়ে শাড়ি না পরলে লোকে কী বলব'—শাশুড়িদের মুখে এই কথা শোনা যায় বহু যুগ ধরে। বাঙালি নারীর পরিচয় যেন শাড়িতেই ফুটে ওঠে। বাংলার চিত্রপট তুলে ধরতে এখনো রঙতুলিতে আটপৌরে জীবনের সাথে শাড়িতেই নারীকে আঁকা হয়। যেকোনো অনুষ্ঠানে সাদা শাড়ি আর লাল পাড়ই বাঙালি নারীদের বিশেষ সাজ। সেই সাথে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান তো রয়েছেই, যা শাড়ি পড়ার উল্লেখযোগ্য উপলক্ষ। পশ্চিমা পোশাকগুলো এখন বহুল ব্যবহৃত হলেও শাড়ির প্রতি বাঙালি নারীর অনুভূতির কোনো ঘাটতি নেই।
আধুনিক পোশাকের ব্যবহার অনেক বেড়েছে, তা সত্ত্বেও দেশীয় ঐতিহ্য ধরে রাখতে শাড়িতে রিকশা প্রিন্ট, গামছা প্রিন্ট নকশী কাঁথার সেলাই, পুরোনো দিনের সিনেমার পোস্টার গুলোকে স্ক্রিন প্রিন্টের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলছে ফ্যাশন ডিজাইনাররা। এগুলোর চাহিদাও বাড়ছে।
—সিলমী সাদিয়া, শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
পাঞ্জাবিতেই স্বাচ্ছন্দ্য
কথায় আছে, 'বাঙালির বাঙালিয়ানা, পাঞ্জাবিতে ষোল আনা।' যেকোনো অনুষ্ঠানে ছেলেদের পছন্দের পোশাক পাঞ্জাবি। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা আধুনিক হয়েছি এবং আমরা পোশাক হিসেবে প্যান্ট-শার্ট, কোট-টাই পরেছি। কিন্তু আমাদের পছন্দের প্রথম দিকে পাঞ্জাবিই রয়েছে। আমাদের রুচির পরিবর্তনের ফলে পরিবর্তিত হয়েছে পাঞ্জাবির নান্দনিকতা এবং ডিজাইন।
অনুষ্ঠান কিংবা যে কোনো আয়োজনে বাঙালি ছেলেদের মনে পাঞ্জাবির যে আবেদন তা ফুরিয়ে যাবার মতো নয়। একইসাথে অনেকের কাছেই স্বাচ্ছন্দ্যের পোশাক হলো পাঞ্জাবি। ঈদ কিংবা বিয়ের আয়োজননে পাঞ্জাবি আমাদের পছন্দের শীর্ষে। ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত নবীনবরণ, ইফতার মাহফিল, বৈশাখসহ সকল অনুষ্ঠানে আমি পাঞ্জাবিতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
—মাহমুদুল হাসান বাইজিদ, শিক্ষার্থী, পরিসংখ্যান বিভাগ, সরকারি ব্রজমোহন কলেজ, বরিশাল।
বাঙালির ঐতিহ্যের পোশাক
বাঙালি মেয়েদের কাছে শাড়ি হলো তার গর্ব, সর্বশ্রেষ্ঠ অঙ্গশোভা। আপনি যে পোশাকই পরুন না কেন এ দেশের রমনীদের শরীরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে মানানসই পোশাক হলো শাড়ি। তাইতো যেকোনো পরিবেশে, যেকোনো অনুষ্ঠানে শাড়ির কদর সর্বোচ্চ সমাদৃত।
অপরদিকে, যেকোনো অনুষ্ঠানে পাঞ্জাবি হলো পুরুষদের ফ্যাশনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাঞ্জাবি ছাড়া ছেলেদের উৎসব যেন জমেই না। পাঞ্জাবিতে রয়েছে যুগ যুগ ধরে চর্চা হয়ে আসা ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সংস্কৃতির ছোয়া। যেকোন অনুষ্ঠানে পুরুষদের পছন্দের পোশাকের তালিকায় প্রথম স্থান দখল করে নিয়েছে পাঞ্জাবি। পাঞ্জাবিতে পুরুষের রুচিবোধ প্রকাশ পায়।। তাই ফ্যাশনে শাড়ি-পাঞ্জাবি কোনোদিনও পুরনো হবে না।
—রিয়া মোদক, শিক্ষার্থী, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগ, হাবিপ্রবি, দিনাজপুর।