আলোচনায় ‘ওপেনার’ মুশফিক

শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সেন্টার উইকেটে বোলিং মেশিনের সাহায্যে ব্যাটিং অনুশীলন করছিলেন সাকিব আল হাসান। গুড লেন্থ ও খাটো লেন্থে পড়া বেশির ভাগ বলই উড়িয়ে সীমানাছাড়া করেন লং অন ও মিড উইকেট দিয়ে। কয়েকটা বল তো গ্র্যান্ড স্টান্ডের গ্যালারিতে গিয়ে আছড়ে পড়ে। নেটের পেছনে তাকে দেখে শ্যাডো করছিলেন মুশফিকুর রহিমও। নিজের পালা এলে একই রকম প্রতিচ্ছবি দেখাবেন তিনি, তেমন ইঙ্গিতও মিলছিল।

মুশফিক চেষ্টা করেছেন বটে, কিন্তু সাকিবের মতো সফল হতে পারেননি। প্রথমে টাইমিং ও পরে গায়ের জোরে বল সীমানাছাড়া করতে গিয়ে কিছুটা হিমশিম খেতে হয় তাকে। তবে নিজেকে বদলাতে যে কাজ করছেন, তা বুঝতে বাকি নেই।

টেস্ট ও ওয়ানডেতে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় স্তম্ভ হলেও মুশফিক কখনো টি-২০ সুলভ ব্যাটসম্যান হতে পারেননি। ১০০ ম্যাচে মাত্র ২০ ছুঁইছুঁই গড়ে ১৪৯৫ রান করেছেন তিনি। স্ট্রাইকরেট কেবল ১১৫.৪৪ এবং ফিফটি ৬টি। তার অধারাবাহিকতা নির্বাচকদের নজরে পড়তে বেশ লম্বা সময়ই লেগে যায়। গত বিশ্বকাপে ব্যর্থতার কারণে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-২০ সিরিজ থেকে বাদ পড়েছিলেন ৩৫ বছর বয়সি এই ব্যাটসম্যান। কিছুদিন আগে জিম্বাবুয়ে সফরেও টি-২০ দলে খুঁজে পাননি নিজের নাম। তবে এশিয়া কাপে আবারও তার ওপর আস্থা রেখেছেন নির্বাচকেরা।

সেই আস্থার প্রতিদান দিতেই ব্যাটিংয়ের ধরনে পরিবর্তন আনছেন মুশফিক। বদলে যাওয়ার ছাপ স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছেন তার গুরু ও বিকেএসপির উপদেষ্টা নাজমুল আবেদীন ফাহিম। গতকাল মিরপুরে বেশ নিবিড়ভাবেই মুশফিকের ব্যাটিং পর্যবেক্ষণ করেন তিনি, ‘টি-২০ একদম ভিন্ন একটি খেলা। এখানে ধরনটা ভিন্ন হওয়া উচিত, কার্যকরিতাও ভিন্ন হওয়া উচিত। আজকে (গতকাল) আমরা দেখছি, মুশফিক বিশাল বিশাল ছয় মারার চেষ্টা করছে। আগে তো এভাবে দেখিনি। আগে সে তার মতো করে খেলেছে, নিজের মতো করেই প্রস্তুতি নিয়েছে। সেটা এ কারণেই, যখন আমরা ভাবতে শুরু করছি, আগে যা করেছি তা করলে হবে না। আমাদের বদলাতে হবে, এর শুরুটা বোধ হয় এখান থেকেই।’

এশিয়া কাপে ১৭ জনের দল দিলেও স্বীকৃত ওপেনার কেবল দুজন—পারভেজ হোসেন ইমন ও এনামুল হক বিজয়। দুজনের কেউই টি-২০তে নিয়মিত নন। ইমনের অভিষেকই হলো জিম্বাবুয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচে। সংক্ষিপ্ত সংস্করণে বিজয় এখনো ছন্দ খুঁজে পাননি। এশিয়া কাপে ওপেনিংয়ে অন্যতম বিকল্প হিসেবে মুশফিকের নাম উঠছে বেশ জোরেশোরেই।

ফাহিম জানালেন, ওপেন করতে হলে মুশফিককে এফেক্টিভ হতে হবে, ‘খুব ভালো খেলোয়াড় হওয়াটা জরুরি না, এফেক্টিভ খেলোয়াড় হওয়াটা জরুরি। টি-২০তে ডিফেন্সিভ চিন্তা করার সুযোগ নেই। মুশফিক যদি ওপেন করে, তাকে টি-২০-এর যে চরিত্র, ব্যাকরণ আছে, সেটা অনুসরণ করেই খেলতে হবে। ৮০ রান করলে তাকে ৫০-৫৫ বলে করতে হবে, ৭৫ বলে করলে হবে না। তাই টি-২০-এর মেজাজটা ধরে রেখেই খেলতে হবে তাকে। ওর ধরন যদি ঠিক থাকে, তাহলে সেটা সম্ভব।’ কাল ব্যাটিং করার আগে মাঠে বসে টি-২০ অধিনায়ক সাকিবের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করছিলেন মুশফিক। আলোচনায় হয়তো উঠে এসেছে ওপেনিং প্রসঙ্গও!