‘রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার’ অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্রকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে তাকে থানায় পাঠিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল কর্তৃপক্ষ বলছে, মেফতাহুল মারুফ নামের ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদিকে ওই শিক্ষার্থীকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার সময় ছাত্র অধিকার পরিষদের তিন নেতার ওপর হামলা করা হয়েছে। থানা থেকে ছাড়িয়ে আনার সময় জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের মাজারের সামনে এ হামলা করে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা।
মারধরের শিকার ব্যক্তিরা হলেন-ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাবি শাখার দপ্তর সম্পাদক সালেহউদ্দিন সিফাত, অর্থ সম্পাদক আহনাফ সাঈদ খান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সম্পাদক আবদুল কাদের। তাদের মধ্যে সিফাত ও আহনাফকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মেফতাহুল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ ও বিভাগের ১৪তম ব্যাচ) ছাত্র। যে মেসেঞ্জার গ্রুপে আলোচনার জন্য মেফতাহুলকে থানায় দেওয়া হয়েছে, সেখানে তার বিভাগ ও ব্যাচের সব শিক্ষার্থী রয়েছেন। গ্রুপটির নাম ‘চৌদ্দশিখা’।
মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে গত বুধবার ছাত্রলীগের কর্মসূচি পালিত হয়। সিরিজ হামলা ও কর্মসূচি নিয়ে সমালোচনা করে চৌদ্দশিখা নামের গ্রুপটিতে কিছু কথা লিখেছিলেন মেফতাহুল মারুফ। সেখানে তিনি ছাত্রলীগের কর্মসূচির কারণে জনগণের ভোগান্তি হয়েছে বলে সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘সিরিজ বোমা হামলা চালাইছে জামায়াতুল মুজাহিদিন নামে একটা জঙ্গি সংগঠন বাংলা ভাইয়ের নেতৃত্বে, সেই সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত।’ মেফতাহুল ওই লেখায় আরও উল্লেখ করেন ক্ষমতায় থাকায় ওই হামলার জন্য বিএনপি-জামায়াত দায়ী হলে ২০০৮ সালের পরের সব জঙ্গি হামলার জন্য আওয়ামী লীগ দায়ী। এরপর হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা গতকাল মধ্যরাতে মেফতাহুলকে হল প্রাধ্যক্ষের কাছে নিয়ে যান।
মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘মিফতাহুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘হলের শিক্ষার্থীরা তার রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি জানাতে পেরে আমাকে জানায়। রাতে তাকে যখন আমার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়, সে আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলছিল না। তাই বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘হল প্রশাসন সহযোগিতা চেয়েছিল। প্রক্টরিয়াল বডি তাদের সহযোগিতা করেছে।’ মেফতাহুল মারুফ নামের ওই শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মওদুত হাওলাদার।
ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাদের ওপর হামলার বিষয়ে ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক আকরাম হুসাইন বলেন, ‘গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল কর্তৃপক্ষ মেফতাহুল মারুফ নামের এক ছাত্রকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে শাহবাগ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। মেফতাহুলকে মুক্ত করতে আজ শাহবাগ থানায় যান ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাবি শাখার কয়েক নেতা। তাকে থানা থেকে মুক্ত করে ফেরার পথে তারা হামলার শিকার হন।’
আকরাম হুসাইন জানান, আজ দুপুরের দিকে শাহবাগ থানা থেকে হেঁটে টিএসসির দিকে যাচ্ছিলেন সিফাত, আহনাফ ও কাদের। মোটরসাইকেলে করে তাদের অনুসরণ করছিলেন কবি জসীমউদ্দীন হল শাখা ছাত্রলীগের একদল কর্মী। জাতীয় কবির সমাধিসংলগ্ন ফুটপাতে ছাত্রলীগের ওই কর্মীরা মোটরসাইকেল থেকে নেমে সিফাত, আহনাফ ও কাদেরের ওপর হামলা করেন। মাজহার নামের এক ছাত্রলীগ কর্মী এই মারধরে নেতৃত্ব দেন। মারধরের শিকার সিফাত ও আহনাফ বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত রয়েছে। মারধরের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেছে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাবি শাখা।
অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘এ সম্পর্কে আমরা অবগত নই। ছাত্রলীগের কর্মীদের এ ধরনের ঘটনা ঘটানোর প্রশ্নই আসে না।’