সিরাজগঞ্জে মুলিবাড়িতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের স্থাপন নির্মাণ কাজ প্রায় ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। নির্মাণের মেয়াদ শেষের পর আরও দুই বছর পেরিয়ে গেছে। কবে নাগাদ বাকি কাজ শেষ হবে তা এখনও অনিশ্চিত। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক/কর্মচারী এখনও নিয়োগ দেওয়া হয়নি। নেই আসবাবসহ শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ। বিদ্যুতের ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি এখনও অনিশ্চিত। ইতিমধ্যেই কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি উদ্বোধন করা হয়েছে।
বিদেশ গমনেচ্ছুকসহ বেকার যুবকদের স্বল্প মেয়াদী প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তরবঙ্গ মহাসড়কের মুলিবাড়িতে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এজন্য ব্যয় হয় ২১ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা। ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২০২০ সনের জুন মাসে পুরো কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর পর আরো দুই বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত স্থাপনা নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে ৭০ ভাগ। কাজ বর্তমানে যে গতিতে এগুচ্ছে তাতে করে নির্মাণ কাজ কবে নাগাদ শেষ হবে তা ভবিতব্যই বলতে পারে। অর্থায়নের উৎস জি ও বি। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অর্থের প্রত্যাশী সংস্থা।
কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি বর্তমানে সবেধন নীলমনি একমাত্র অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন কর্মরত হয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি ছাড়া প্রতিষ্ঠানে আর কোন শিক্ষক বা অন্যান্য স্টাফ নেই। প্রতিষ্ঠানের জন্য ১৮ জন শিক্ষক ও ৫০ জন কর্মচারী প্রয়োজন। কাউকেই নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আসবাবপত্র নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেঞ্চ নেই। প্রশিক্ষণের কোন সামগ্রী নেই। বৈদ্যুতিক সংযোগসহ স্থাপনায় বৈদ্যুতিক ওয়ারিং এমনও শুরু হয়নি। নেই বলতে কিছুই নেই। তাই ভর্তিসহ ক্লাস শুরু করা যাচ্ছে না। শিক্ষক এবং স্টাফদের থাকর ব্যবস্থাও হয়নি। সব কিছুই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। ফলে প্রশিক্ষণে উৎসুক বেকারদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকোশলী বলেন, নির্মাণ কাজ ৭০ ভাগ হয়েছে। পুরো কাজ শেষ হতে আরও কতদিন লাগবে বা নির্দিষ্ট সময়ের পরও আড়াই বছর অতিরিক্ত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় ব্যয় বাড়বে কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।