আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির, বিপাকে কৃষক 

তীব্র খরা, অনাবৃষ্টিও অস্বাভাবিক লোডশেডিং-এর কারণে জমিতে সেচ দিতে না পারায় কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় আমনের ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। মৌসুমের শুরুতেই তীব্র খরায় আমনের অনেক বীজতলা পুড়ে গেছে। এতে আমন চাষ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন উপজেলার প্রান্তিক চাষিরা। আমন ফসলের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে উপজেলা কৃষি অফিস।   

শনিবার (২৭ আগস্ট) সরজমিনে উপজেলার নারান্দী, বুরুদিয়া, পাটুয়াভাঙ্গা, হোসেন্দী, জাংগালিয়া ও পৌরসদরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অব্যাহত খরা ও অনাবৃষ্টিতে ফসলের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। টানা তাপপ্রবাহে ক্ষেতে লাগানো ধানের চারা পুড়ে যাচ্ছে। অনেক চারা হলুদ রং ধারণ করেছে ও পাতা শুকিয়ে যাচ্ছে। আমন ধানের ভরা সৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় এখনো অনাবাদী পড়ে আছে অনেক জমি। শ্যালো মেশিন ও বৈদ্যুতিক পাম্প দিয়ে জমিতে সেচ দিয়ে ধানের চারা রোপণ করার জন্য জমি প্রস্তুত করছেন অনেক কৃষক। আবার অস্বাভাবিক লোডশেডিং-এর কারণে শ্যালও মেশিনেই ভরসা করতে হচ্ছে তাদের। এদিকে ডিজেল ও সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় হতাশায় ভুগছেন চাষিরা।   

হোসেন্দী এলাকার কৃষক রইছ উদ্দিন জানান, এক সময় বর্ষার ভরা মৌসুমে নবাগিয়া বিল ও তার পার্শ্ববর্তী জমিতে পানি থই থই করত। এবার তীব্র খরা ও অনাবৃষ্টিতে  ক্ষেতের মাটি শুকিয়ে ফেটে যাচ্ছে। সেচের অভাবে চারাগাছ শুকিয়ে হলুদ হয়ে মরে যাচ্ছে। বৃষ্টি না থাকায় ও লোডশেডিং-এর কারণে শ্যালও মেশিন দিয়ে আমন ধানের আবাদ করতে অনেক খরচ গুনতে হচ্ছে।  

জাংগালিয়া ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের কৃষক হেলাল উদ্দিন জানান, এবার আশানুরূপ বৃষ্টি না হওয়ায় তার ৪ বিঘা জমিতে শ্যালও মেশিন দ্বারা সেচ দিতে হচ্ছে। সেচের জন্য ৮০ টাকার ডিজেল এখন ১১৪ টাকায় কিনতে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। এতে এক বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে এবছর ৭-৮ হাজার টাকা অতিরিক্ত সেচ খরচ লাগছে। অনাবৃষ্টি আর তীব্র খরায় চারাগাছের ক্ষতি হচ্ছে। 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ নূরে-ই-আলম বলেন, এ বছর পাকুন্দিয়া উপজেলায় ১০ হাজার ৯শত ৯৬ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। কিন্তু  রোপণের শুরুতেই তীব্র খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে ধানের চারার আশানুরূপ কুশি গজায়নি। এছাড়াও সেচের জন্য রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশনা থাকলেও ক্রমাগত লোডশেডিং এ সম্পূরক সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকদের নির্ভর করতে হচ্ছে ডিজেল চালিত শ্যালও মেশিনের ওপর। ফলে আমাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে উপজেলায় সারের কোন সংকট নেই। আমরা সেচের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে শীঘ্রই আলোচনা করব। আমরা নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন ও কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান অব্যাহত রেখেছি।