সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি সাফল্যের মুখ দেখতেই যেন ভুলে গেছে। তামিম ইকবালের অবসর নেওয়ার পর থেকে যেন একজন জাত ওপেনারের জন্য হাপিত্যেশ করেই যাচ্ছে বাংলাদেশ। আরেক ওপেনার লিটন দাশের ইঞ্জুরি যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে এসেছে টাইগার বাহিনীর জন্য।
এশিয়া কাপের স্কোয়াডে যে তিনজন স্বীকৃত ওপেনার রয়েছে তাদের মধ্যে এনামুল হক বিজয় আর নাঈম শেখ যথারীতি হতাশাই উপহার দিয়েছেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে। আরেক প্রথাগত ওপেনার পারভেজ ইমনের এখনও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতাই হয়নি বলা যায়। এমন পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপের আজকের ম্যাচে ওপেনিং পজিশনে নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ইঙ্গিতই দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ টীম ম্যানেজমেন্ট।
এনামুল-নাঈমের পরিবর্তে আজ ওপেনিংয়ে পাঠানো হতে পারে সাব্বির রহমান আর মেহেদি হাসান মিরাজকে, এমন আভাসই পাওয়া গেছে দলীয় সূত্র থেকে। ২০১৫ সালের পর বিগত ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর দিয়ে আবারও দলে ফিরলেও টি-টোয়েন্টিতে কাঙ্ক্ষিত পারফরম্যান্স করতে ব্যর্থ এনামুল হক বিজয়। দলে ফেরার পর ৭ ম্যাচে মাত্র ৯৫.৭৪ স্ট্রাইক রেটে এনামুল করেছেন ৯০ রান। এদিকে টানা ব্যর্থতার পাশাপাশি লঙ্কান অফ স্পিনার মহেশ থিকসেনার কথা মাথায় রেখে ওপেনিং থেকে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান কমানোর ভাবনাতেই বাদ পড়তে পারেন নাঈম শেখ।
আজ বাংলাদেশ দলে স্বীকৃত ওপেনার বাদ দিয়ে বিকল্প পথে হাঁটতে পারে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে টীম ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে। সাব্বির আর মিরাজের নামও এসেছে সেই সূত্র ধরেই। প্রায় তিন বছর পর দলে ফেরা সাব্বির রহমান এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কখনও ইনিংস উদ্বোধন করেননি। তবে বিপিএলে ওপেন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে সাব্বিরের। মিরাজ একবার ভারতের বিপক্ষে ওপেনিংয়ে নামলেও সেটি ছিল ওয়ানডে ম্যাচ। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে মিরাজের ওপেন করার ভালো অভিজ্ঞতাই রয়েছে।
বাংলাদেশ দলের ওপেনিং নিয়ে যে টীম ম্যানেজমেন্ট বেশ চিন্তিত সেটি বোঝা গেছে টিম ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনের গতকালের (বুধবার) কথাতেই। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি শুরুতেই বেশি উইকেট না হারিয়ে ভালো করতে পারি, তাহলে সেটা আমাদের জন্য আদর্শ হবে। প্রথম ৬ ওভার খুবই গুরুত্বপূর্ণ আমাদের জন্য। পাওয়ার প্লে কাজে লাগাতে হবে আমাদের। আমরা যদি ব্যাটিং-বোলিংয়ে প্রথম পাওয়ার প্লে জিততে পারি, তাহলে হয়তো আমরা ম্যাচও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো।’
টিম মিটিংয়ে সাব্বির-মিরাজকে ওপেন করানোর আলোচনা হলেও একাদশ ঠিক করা হবে ম্যাচের দিনই। তবে যেই ওপেন করুক তাদের কাছে দলের চাওয়াটাই যেন জানিয়ে রাখলেন সুজন, ‘প্রথম বলেই ওদের কেউ মারতে গিয়ে আউট হতেই পারে, সেটা আমি মেনে নেব। তবে যখন ইনটেন্ট দেখি না, তখনই আমাদের বেশি কষ্ট হয়। আমি ওদের ভেতর ওই মানসিকতা দেখতে চাই। মানসিকতার পরিবর্তনটা দেখতে চাই।’