মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতিতে শ্রমিকরা, অচল হয়ে পড়েছে নাকুগাঁও স্থলবন্দর

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও স্থলবন্দরে পণ্য বোঝাই ও খালাসের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা গতকাল বৃহস্পতিবার কর্মবিরতি পালন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। ফলে স্থবির হয়ে পড়ে স্থলবন্দরের কার্যক্রম। লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়ন-৪০৪৬-এর ডাকে উক্ত কর্মবিরতি চলমান রয়েছে। শ্রমিকনেতারা জানিয়েছেন, তাদের এই কর্মবিরতি চলমান থাকবে।

নালিতাবাড়ী শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরের নাকুগাঁও স্থলবন্দরে দিন হাজিরার ভিত্তিতে কাজ করেন প্রায় ২ হাজার শ্রমিক। এরা মূলত পাথর ভাঙেন। আর কার্ডধারী শ্রমিক রয়েছেন প্রায় ৮৫০ জন। কার্ডধারী শ্রমিকেরা ভারত থেকে আমদানি করা পণ্য গাড়িতে বোঝাই ও খালাসের কাজ করেন। এদের পরিচালনা করার জন্য প্রায় ৬০ জন শ্রমিকনেতাও রয়েছেন। শ্রমিকেরা প্রতি ঘনফুট পাথর লোড-আনলোড করতে এবং পাথর ভাঙতে তিন টাকা করে মজুরি পান। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রবের মূল্যবৃদ্ধির ফলে শ্রমিকেরা তিন টাকার স্থলে চার টাকার দাবি জানিয়ে আসছেন প্রায় দেড় মাস ধরে। কিন্তু আমদানি ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শুরু করেন।

এর আগে এ নিয়ে নাকুগাঁও আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতিসহ ব্যবসায়ী নেতারা ‘লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়ন’-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে বৈঠক করে ১০ দিনের সময় নেন। গত বুধবার মালিকপক্ষ বৈঠক করলেও শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো কথা না বলায় তারা গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে কর্মবিরতি শুরু করেন। তারা বন্দরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও স্থলবন্দরে বৃহস্পতিবার কর্মবিরতি পালন, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শ্রমিকরা।

লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুজন মিয়া বলেন, ‘সবকিছুর দাম বেড়েছে। এত স্বল্প মজুরিতে শ্রমিকদের সংসার চলে না। চাল-ডাল কেনার পয়সাও হয় না। আমরা শ্রমিকেরা কী খেয়ে বাঁচব? ব্যবসায়ীদের কাছে প্রতি ঘনফুটে মাত্র এক টাকা মজুরি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছি। বিষয়টি বিবেচনা করে যদি দাবি মেনে নেওয়া হয়, তাহলে শ্রমিকেরা অন্তত দুই বেলা কোনোমতে খেয়ে বাঁচতে পারবেন।’

এ ব্যাপারে নাকুগাঁও আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, বিশ্ববাজারে ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরাও বিপাকে পড়েছেন। তার ওপর শ্রমিকেরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এ নিয়ে লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি-সম্পাদকের সঙ্গে কথা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথ বলে মজুরি বাড়ানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি কর্মবিরতি ভেঙে শ্রমিকদের কাজে যোগদানের আহ্বান জানান।