আগরতলা ইমিগ্রেশনে নতুন নিয়ম, ভোগান্তিতে বাংলাদেশি যাত্রীরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা ভ্রমণে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে। ভ্রমণ ভিসায় ৩০ দিনে একবার ও ব্যবসায় ভিসায় ৭ দিনে একবার ভারতে ঢোকার নতুন নিয়ম বেঁধে দিয়েছে আগরতলা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। এতে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়েছেন দু’দেশের যাতায়াত করা যাত্রীরা। গত এক সপ্তাহে ১৫ জন বাংলাদেশি যাত্রীকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে আগরতলা ইমিগ্রেশন। তবে বাংলাদেশের ভারতীয় হাই কমিশন বলছে এ ধরনের কোনো নিয়ম তাদের দেওয়া নেই।

আখাউড়া ইমিগ্রেশনের পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভ্রমণ, চিকিৎসা ও ব্যবসায় ভিসায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাতায়াত করেন বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার মানুষ। ভারত সরকার বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ ও চিকিৎসা ভিসা ছয় মাস থেকে এক বছর এবং ব্যবসা ভিসা তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদে দিয়ে থাকে। এত দিন যাত্রীরা এসব ভিসায় বিনা বাধায় আখাউড়া-আগরতলা স্থলপথ দিয়ে ভারতে যাতায়াত করতেন। কিন্তু গত ২৭ আগস্ট শনিবার থেকে এই স্থলপথে নতুন নিয়ম চালু হয়েছে। আখাউড়া দিয়ে ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটন ভিসায় মাসে (৩০ দিনে) একবার এবং ব্যবসায় ভিসায় ৭ দিনে একবার ভ্রমণের নিয়ম চালু হয়েছে। নতুন নিয়মের আওতায় ২৭ আগস্ট থেকে পর্যটন ভিসার ১৫ যাত্রীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়েছে আগরতলা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।

গত ৩০ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার নরসিংসার গ্রামের রায়হান উদ্দিন ভ্রমণ ভিসায় আখাউড়া বন্দর দিয়ে ভারতের আগরতলা ইমিগ্রেশনে যান। কিন্তু আগরতলা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান। কারণ, তিনি ১০ আগস্ট ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। ৩০ দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় ভ্রমণ হওয়ায় তাকে ফেরত পাঠানো হয়। ওই দিন সকালে তিনি আখাউড়া ইমিগ্রেশন পুলিশ চেকপোস্টে পৌঁছে বহির্গমনের নির্ধারিত ফরম পূরণ করেন। আখাউড়া ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্টে বহির্গমন মোহর যুক্ত করে দেয়। আগরতলা ইমিগ্রেশন থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর পর এই বিষয়ে তিনি আখাউড়া ইমিগ্রেশন ইনচার্জ বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগও দেন।

একই অভিযোগ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার হরষপুরের অজিত দাস নামের এক যাত্রী। তিনি গত ১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশনের সব কার্যক্রম শেষ করে আগরতলা ইমিগ্রেশনে গেলে একই অজুহাতে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তিনিও আখাউড়া ইমিগ্রেশন ইনচার্জ বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব উদ্দিন ভূইয়া বলেন, ‘আগরতলা ইমিগ্রেশনের নতুন নিয়মের ফলে ভ্রমণ ভিসায় যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়াবে পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হবে। কারণ, বন্দর দিয়ে মালামাল রপ্তানির সময় ব্যবসায়ীদের প্রায় প্রতিদিনই আগরতলা গিয়ে সেখানকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলতে হয়। এখন এই নিয়ম চালু থাকলে ব্যবসায়ীদের সমস্যা হবে। কারণ, মালামাল রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো জটিলতা দেখা দিলে ব্যবসায়ীরা ৭ দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আগরতলা যেতে পারবেন না। পণ্য রপ্তানি করে ব্যবসায়ীদের ৭ দিন অপেক্ষা করতে হবে। এতে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটবে।’

তিনি জানান, দেশের অন্য কোনো বন্দরে এই নিয়ম নেই। শুধু আগরতলা ইমিগ্রেশন দিয়েই এই নিয়ম চালু হয়েছে।

আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) দেওয়ান মোর্শেদুল হক বলেন, ‘পূর্ব কোনো ঘোষণা ছাড়াই আগরতলা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভ্রমণ ভিসার বাংলাদেশি যাত্রীদের ফেরত পাঠাচ্ছেন। তারা যাত্রীদের বলছে, পর্যটন ভিসায় মাসে একবার ও ব্যবসায় ভিসায় ৭ দিনে একবার ভারতে যাতায়াত করতে পারবেন। ফেরত পাঠানো কয়েকজন যাত্রী আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

এবিষয়ে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে আগরতলা স্থলবন্দরের ম্যানেজার দেবাশীষ নন্দী বলেন, ‘ভ্রমণ ভিসায় যাত্রীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।’

বাংলাদেশের চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের দ্বিতীয় সচিব উদিত ঝা বলেন, ‘মাসে ১ বার ভ্রমণ করতে পারবে এইরকম কোনো নিয়ম আমাদের দেওয়া নেই। ভ্রমণ ভিসার বাংলাদেশি যাত্রীদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি জানা নেই, তবে খোঁজ-খবর নিয়ে দেখবো।’