এশিয়া কাপ

প্রতিশোধের মিশনে পাকিস্তান

রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ক্রিকেট মাঠেও গড়ায় না ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। একমাত্র বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টেই এশিয়ার এই দুই ক্রিকেট পরাশক্তির মহারণ দেখার সৌভাগ্য হয় ক্রিকেটপ্রেমীদের। এবারের এশিয়া কাপ যেন সেদিক দিয়ে দুহাত ভরে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তান মহারণ উপহার দিলো দর্শকদের। এখনও সপ্তাহ পেরোয়নি গ্রুপ পর্বে  মুখোমুখি হয়েছিলো দুই দল। আজ আবার সুপার ফোরের লড়াইয়ে মাঠে নামছে রোহিত শর্মা আর বাবর আজমের দল।

আজ বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় দুবাই স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে মর্যাদার লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। আজকের ম্যাচটিকে বলা যায় পাকিস্তানের প্রতিশোধ নেয়ার মঞ্চ। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে যে ভারতের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছিলো তারা।  

গ্রুপ পর্বের ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং নিয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি পাকিস্তান। ভুবনেশ্বর কুমার আর হার্দিক পান্ডিয়ার  বোলিং তোপে পড়ে সুব উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান সংগ্রহ করে মাত্র ১৪৭ রান। ১৪৮ রানের টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভালো ছিলো না ভারতেরও। প্রথমদিকে কিছুটা ধীরগতিতে রান তোলার ফলে শেষের দিকে গিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে ভারত। তবে এখানেও ভারতের ত্রাতা হয়ে অঠেন হার্দিক পান্ডিয়া। ১৭ বলে ৩৩ রানের ঝড়ে ভারতকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন এই অলরাউন্ডার। 

গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে হংকংকে ৪০ রানে হারিয়ে সুপার ফোরে নিশ্চিত করে রোহিত-কোহলিরা। আর পরথম ম্যাচে ভারত্যের কাছে হারলেও শেষ ম্যাচে হংকংয়ের বিপক্ষে ১৫৫ রানের বিশাল জয় নিয়ে সুপার ফোরে ওঠে পাকিস্তান। মোহাম্মদ রিজওয়ান, ফখর জামা আর খুশদিল শাহ'র ঝড়ো ব্যাটিং আর বোলিং ইউনিটের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স পাকিস্তানের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিলো। এবার সুপয়ার ফোরে আবার ভারতের মুখোমুখি হওয়ায় গ্রুপ পর্বের হারের প্রতিশোধ নিতে মুখিয়ে আছে পাকিস্তান। 

পাকিস্তানের সহ-অধিনায়ক শাদাব খান বলেন, ‘গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে আমরা ভালো ক্রিকেট খেলেছি। ১৪৭ রানের পুঁজি নিয়েও বোলাররা যেভাবে লড়াই করেছে, সেটি প্রশংসনীয়। এবার আর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে পুরনো ভুল করতে চাই না। দলের সবাই জয়ের জন্য মুখিয়ে আছে।’

এদিকে গ্রুপ পর্বের মতো সুপার ফোরের এই ম্যাচেও পাকিস্তানকে ছেড়ে কথা বলতে নারাজ ভারত। দলের ওপেনার লোকেশ রাহুল বলেন, ‘আমরা জয়ের মধ্যেই আছি। এই ধারাটা অব্যাহত রাখতে চাই। আরও একবার পাকিস্তানকে হারাতে মরিয়া পুরো দল। তবে কাজটি খুবই কঠিন। প্রথম ম্যাচের মত ব্যাট-বলে পারফরম্যান্স করতে পারলে, এবারও জয় পেতে সমস্যা হবে না আমাদের।’

এদিকে, পরিসংখ্যানের পাল্লাটা অবশ্য ভারী ভারতের দিকেই। টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ১০বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-পাকিস্তান। সেখানে ৮বার জিতেছে ভারত। ২বার জয় পায় পাকিস্তান। আর এশিয়া কাপের মঞ্চে মোট ১৬বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত-পাকিস্তান। সেখানেও এগিয়ে ভারত। ভারতের ৯ জয়ের পাশাপাশি পাকিস্তান জিতেছে ৫টি ম্যাচে। এছাড়া, দুইটি ম্যাচ হয়েছে পরিত্যক্ত।

২০১২ সালে সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলেছিলো ভারত-পাকিস্তান। রাজনৈতিক বৈরিতার কারনে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলে না দু’দেশের ক্রিকেট বোর্ড। তাই বৈশ্বিক ইভেন্টে যখনি মুখোমুখি হয় ভারত-পাকিস্তান, তখন সেই ম্যাচ মানেই বাড়তি উন্মাদনা। গত সপ্তাহের মত আরও একবার ভারত-পাকিস্তানের হাইভোল্টেজ ক্রিকেট যুদ্ধ দেখতে মুখিয়ে রয়েছে ক্রিকেট ভক্তরা।

ভারত স্কোয়াড: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), লোকেশ রাহুল, আর্শদিপ সিং, বিরাট কোহলি, সূর্যকুমার যাদব, ঋষভ পান্ত (উইকেটরক্ষক), দিনেশ কার্তিক, হার্দিক পান্ডিয়া, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার, রবি বিষ্ণই, আভেশ খান, অক্ষর প্যাটেল, দীপক হুডা ও যুজবেন্দ্র চাহাল।  

পাকিস্তান স্কোয়াড : বাবর আজম (অধিনায়ক), শাদাব খান, আসিফ আলি, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), ফখর জামান, হায়দার আলি, হারিস রউফ, ইফতিখার আহমেদ, খুশদিল শাহ, মোহাম্মদ নাওয়াজ, হাসান আলি, নাসিম শাহ, শাহনেওয়াজ দাহানি, মোহাম্মদ হাসনাইন ও উসমান কাদির।

ইত্তেফাক/এসএস