বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন জারি

খেলাপি ঋণ চার বার পুনঃতপশিলের সুযোগ

কোভিড-১৯ এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা কারণে ক্ষুদ্র, বৃহৎ ও মাঝারি শিল্প ঋণগ্রহিতা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নগদ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ পুনঃ তপশিল বা পুনর্গঠন সম্ভব হচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে তাদের জন্য চার বার ঋণ পুনঃ তপশিল বা ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল রবিবার এ সংক্রান্ত একটি মাস্টার সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যাংকের পর্ষদের অনুমতি নিয়ে ব্যাংক তার গ্রাহককে ঋণ পুনঃ তপশিল বা ঋণ পুনর্গঠন সুবিধা দিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, চতুর্থ দফায় পুনঃ তপশিলিকরণের পরও ঋণ, লিজ, বিনিয়োগ গ্রহিতা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তিনি স্বভাবজাত ঋণখেলাপি হিসেবে গণ্য হবেন। এ বিবেচনায় কোনো ঋণ, লিজ, বিনিয়োগ হিসাব সম্মিলিতভাবে চার বারের বেশি পুনঃ তপশিল বা পুনর্গঠন করা যাবে না। সর্বমোট চার বার পুনর্গঠন করার পরও ঋণ আদায় না হলে পাওনা আদায়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এ নীতিমালার আওতায় ঋণ পুনর্গঠন সংক্রান্ত যেকোনো আবেদন বিধিবিধান মেনে প্রতিষ্ঠান-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদে নিষ্পত্তি করতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন বা অনাপত্তির কোনো প্রয়োজন হবে না। 

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, শুধু বিরূপমানে (নিম্নমান, সন্দেহজনক, মন্দ বা ক্ষতি) শ্রেণিকৃত ঋণ, লিজ, বিনিয়োগ পুনঃ তপশিল করা যাবে এবং স্ট্যান্ডার্ড মানে রয়েছে এরূপ ঋণ পুনর্গঠন করা যাবে। নীতিমালার আওতায় ঋণ পুনঃ তপশিল বা পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ব্যাবসায়িক কার্যক্রম হতে উৎসারিত নগদ প্রবাহ (বিজনেস ক্যাশ ফ্লো), আর্থিক বিবরণী, ঋণ বিতরণকালীন নিয়মাচার পরিপালন, গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব, জামানত, ঋণের সদ্ব্যবহার যাচাই করতে হবে।  এছাড়া ঋণ পুনর্গঠন সংক্রান্ত বিষয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদিত নীতিমালা থাকতে হবে। নীতিমালা এ সার্কুলারে বর্ণিত নিয়মাবলীর চেয়ে সহজ হবে না। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রেডিট কমিটি লিখিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে ঋণ পুনর্গঠনের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করবে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তারল্য এবং অন্যান্য গ্রাহকের চাহিদার ওপর ঋণ পুনঃ তপশিলের প্রভাবও ক্রেডিট কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বিস্তারিত লিপিবদ্ধ করবে।

ঋণ, লিজ, বিনিয়োগ পুনঃ তপশিল বা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদনের ক্ষেত্রে পর্ষদকে ঋণের সদ্ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। কোনো গ্রাহকের প্রয়োজনীয় ডাউনপেমেন্টের অর্থ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার তিন মাসের মধ্যে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ পুনঃ তপশিল করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ঋণের কিস্তি বা এর অংশ হিসেবে আদায়কৃত অর্থ ডাউনপেমেন্ট হিসেবে প্রদর্শন করা যাবে না। ঋণ পুনঃ তপশিল, পুনর্গঠনকালে স্বল্পমেয়াদি, এক বছরের বা তার কম মেয়াদের জন্য প্রদত্ত ঋণকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে রূপান্তরের কারণ ও যৌক্তিকতা প্রস্তাবে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।