ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে মাঠে নামছে ভারত

এশিয়া কাপের ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে আজ সুপার ফোরে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত। সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেটে হেরে যাওয়ায় আজকের ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই ভারতের সামনে। ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে হোলে আজ জিততেই হবে রোহিত শর্মার দলকে। আজ লঙ্কানদের বিপক্ষে হেরে গেলে ফাইনালে খেলার সুযোগ অনেকাংশেই শেষ হয়ে যাবে ভারতের জন্য। অন্যদিকে আজ ভারতকে হারাতে পারলে, ফাইনালে এক পা দিয়েই রাখবে শ্রীলঙ্কা।

আজ বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় দুবাইয়ের স্পোর্টস সিটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ভারত-শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ পর্বে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান আর হংকংইয়ের বিরুদ্ধে দুই ম্যাচেই জিতে সুপার ফোরে অঠে ভারত, তবে সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ে তারা। 

সুপার ফোরে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই হোচট খায় রোহিত শর্মার দল। গতরাতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের কাছে ৫ উইকেটে হারে তারা। বিরাট কোহলির হাফ-সেঞ্চুরিতে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮১ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছিলো ভারত। ৪৪ বলে ৬০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন কোহলি। জবাবে ওপেনার মোহম্মদ রিজওয়ানের দুর্দান্ত লড়াকু ইনিংসের সাথে মিডল-অর্ডারে মোহাম্মদ নেওয়াজের টর্নেডো ব্যাটিংয়ে ভারতকে ৫ উইকেটে হারের স্বাদ দেয় পাকিস্তান। রিজওয়ান ৫১ বলে ৭১ ও নেওয়াজ করেন ২০ বলে ৪২ রান। নেওয়াজের ৪২ রানের ইনিংসটিই ম্যাচের মোড় ঘুড়িয়ে দেয়। শেষদিকে ভারতের আর্শদীপ সিংয়ের হাতে জীবন পেয়ে, ৮ বলে ১৬ রানের ইনিংস খেলে পাকিস্তানের জয়ে ভূমিকা রাখেন আসিফ আলি।

তবে নেওয়াজের ইনিংসটিই ম্যাচের নিষ্পত্তি করেছে বলে মনে করেন কোহলি, ‘নেওয়াজের ইনিংসটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। সে যদি ১৫-২০ রানের ইনিংস খেলতো, তা হলে কিছু হতো না। কিন্তু সে ৪২ রানের ইনিংস খেলেছে। এ রকম একটা ইনিংস ম্যাচে প্রভাব ফেলতে বাধ্য। বিশেষত এ রকম একটি ম্যাচে। তার ইনিংস থেকেই আমাদের উপর চাপ শুরু হয়।’

তবে পরের ম্যাচেই ভারতের ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করে কোহলি বলেন, ‘পরের ম্যাচেই ভারত ঘুরে দাঁড়াবে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটি সহজ হবে না। শেষ দুই ম্যাচে দারুণ দু’টি জয় পেয়েছে তারা। আমাদের এ ম্যাচটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। জয় ছাড়া অন্য কিছুই ভাবছি না আমরা।’

অন্যদিকে, টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৮ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিলো লঙ্কানরা। তবে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২ উইকেটে নাটকীয় জয় পেয়ে সুপার ফোরে উঠে শ্রীলঙ্কা। 

সুপার ফোরের প্রথম ম্যাচেও দেখা যায় আত্মবিশ্বাসী শ্রীলঙ্কাকে। আফগানদের বিপক্ষে ৪ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে গ্রুপ পর্বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হারের প্রতিশঢ নেয় শ্রীলঙ্কা। এবার ভারতের বিপক্ষেও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চায় দাসুন শানাকার দল। দলের স্পিনার হাসারাঙ্গা ডি সিলভা বলেন, ‘শেষ দুই ম্যাচের জয় আমাদের দলের মনোবল চাঙ্গা করে দিয়েছে। তাই শক্তিশালী ভারতকে হারানোর ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী। নিজেদের সেরাটা খেলতে পারলে, জয় অসম্ভব কিছুই না।’

এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে ২৫বার মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও শ্রীলংকা। এর মধ্যে ১৭বার জিতেছে ভারত। ৭বার জয় আছে শ্রীলঙ্কার। ১টি ম্যাচ হয়েছে পরিত্যক্ত। গত ফেব্রুয়ারিতে সর্বশেষ টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছিলো দু’দল। ভারতের মাটিতে তিন ম্যাচের ঐ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় লঙ্কানরা।

তবে এশিয়া কাপের ভারত-শ্রীলংকার জয়-হার সমান-সমান। ২০ ম্যাচের মধ্যে সমান ১০বার করে জয় পেয়েছে ভারত ও শ্রীলঙ্কা। ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে হওয়া আসরে শ্রীলংকাকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিলো ভারত।

শ্রীলংকা দল:

দাসুন শানাকা (অধিনায়ক), কুশল মেন্ডিস (উইকেটরক্ষক), দীনেশ চান্দিমাল, দানুশকা গুনাথিলাকা, পাথুম নিশাঙ্কা, চারিথ আসালঙ্কা, ভানুকা রাজাপাকসে, আসিন বান্দারা, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা, মহেশ থিকশানা, জেফ্রি ভান্দারসে, প্রভীন জয়াবিক্রমা, চামিকা করুনারত্নে, দিলশান মধুশঙ্কা, মাথেশ পাথিরানা, নুয়ান্দু ফার্নান্দো, আসিথা ফার্নান্দো, প্রমোদ মধুশান ও নুয়ান থুসারা।

ভারত দল:

রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), লোকেশ রাহুল, বিরাট কোহলি, সূর্যকুমার যাদব, ঋষভ পান্ত (উইকেটরক্ষক), দিনেশ কার্তিক, হার্দিক পান্ডিয়া, অক্ষর প্যাটেল, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ভুবনেশ্বর কুমার, আর্শদিপ সিং, রবি বিষ্ণয়, আভেশ খান, দীপক হুডা ও যুজবেন্দ্র চাহাল।