পরমাণু সমঝোতায় কোনো ধরনের অস্পষ্টতা মানা হবে না : ইরান

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য পরমাণু সমঝোতায় কোনো অস্পষ্টতা মেনে নেবে না ইরান। ইরানের পরমাণু আলোচক দলের উপদেষ্টা মোহাম্মাদ মারান্দি নিজ দেশের এমন অবস্থানের বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।  খবর আলজাজিরা ও পার্স টুডের

ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল সম্প্রতি বলেছেন, ইরানের পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের আশা কমে এসেছে। কেননা আলোচনায় ঐকমত্য হওয়ার পরিবর্তে বরং দূরত্ব আরও বেড়েছে।

জোসেফ বোরেলের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মোহাম্মাদ মারান্দি বলেছেন, জোসেফ বোরেল হয়তো এটা ভুলে গেছেন যে, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার লক্ষ্যেই ভিয়েনায় আলোচনা চলছে। এই নিষেধাজ্ঞায় ইরানের বেশির ভাগ মানুষকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। তাদের দুর্দশার মধ্যে নিমজ্জিত করা হয়েছে। অথচ তেহরান ইতিপূর্বে যে পরমাণু সমঝোতা হয়েছিল, সেটি পুরোপুরি মেনে চলার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, নিশ্চয়তা প্রদান, ইরানের পক্ষ থেকে যাচাইবাছাই এবং স্থায়ীভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলেই কেবল নতুন করে পরমাণু সমঝোতা হতে পারে।

২০১৫ সালে পাঁচ বিশ্ব শক্তির (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও জার্মানি) সঙ্গে নিজেদের পরমাণু সমঝোতা নিয়ে আলোচনা করে ইরান। পরে চুক্তি সইয়ে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ঐ সমঝোতার মাধ্যমে ইরানের ওপর থেকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও মার্কিন প্রশাসনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় এবং তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের বিপরীতে ইরান পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যায়নি ইরান। তবে দেশটি সমঝোতার ২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কমিয়ে দেয়। গত এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ছয় দফা আলোচনা করে ইরান। তবে সেসব আলোচনা থেকে কোনো ফল বেরিয়ে আসেনি। কিন্তু তার পরও এই আলোচনা বিভিন্ন সময়ে চলতে থাকে। আশা করা হয় যে, তাদের এই আলোচনা থেকে ভালো কিছু বেরিয়ে আসবে এবং সেই প্রত্যাশাই করা হয়ে থাকে।