আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নেতারা জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ঠেকাতে আগামী কপ-২৭ জলবায়ু সম্মেলনের আগেই অর্থায়নের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন চেয়েছেন ধনী দেশগুলোর কাছে। মহাদেশটির বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরা গত শুক্রবার মিশরের রাজধানী কায়রোতে তিন দিনের ফোরামে অংশ নেন। সেখানেই এ আহ্বান জানানো হয়।
দুই মাস পর আগামী নভেম্বরে এবার কপ-২৭ জলবায়ু সম্মেলন হতে যাচ্ছে মিশরে। ফোরামের শেষে এক বিবৃতিতে ২৪ জন নেতা বলেন, ‘আমরা উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ুবিষয়ক ও উন্নয়নে অর্থায়নের ক্ষেত্রে তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে দ্বিগুণ অভিযোজন অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করতে, বিশেষ করে আফ্রিকার জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করার দাবি জানাচ্ছি।
চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাবেক প্রধান বান কি-মুন বলেন, আফ্রিকা মহাদেশ বিশ্বব্যাপী কার্বনের মাত্র তিন শতাংশ নিঃসারণ করে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সেসব দেশের ওপরেও। উল্লেখযোগ্যভাবে খরা ও বন্যার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে।
আফ্রিকান নেতারা বলেন যে, ‘আফ্রিকা মহাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রকৃতির অসম ক্ষতি হচ্ছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন। আফ্রিকার কেবল কার্বন নিঃসারণ কম নয়, এটি কঙ্গো বেসিনসহ গ্রিনহাউস গ্যাসগুলোকে প্রতিরোধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আফ্রিকাতেই আমাজনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রেইনফরেস্টের আবাসস্থল। ধনী দেশগুলোকে জলবায়ুবিষয়ক প্রতিশ্রুতি পূরণ ও প্রসারিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। নেতারা বলছেন, দরিদ্র দেশগুলোকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলোর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে আরও তহবিল পাওয়ার পাশাপাশি এসব দেশে উন্নয়ন জরুরি।
জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আকস্মিক বিনিয়োগকে উত্সাহিত করে এমন পন্থা এড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তারা। তারা বলছেন এটি আফ্রিকার উন্নয়নকে হুমকির মুখে ফেলবে।