ইরানের ‘নীতি পুলিশের’ ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

সঠিকভাবে হিজাব না পরার অভিযোগে আটক এক নারীর পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায় সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ হচ্ছে ইরানে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এক বিশাল বিক্ষোভ হয়েছে ইরান জুড়ে। তবে হিজাব পরার দাবিতে পাল্টা বিক্ষোভ করেছেন দেশটির সরকার পন্থীরাও। 

এদিকে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা শত্রুদের মোকাবিলায় নামবে। অন্যদিকে ইরানের ‘নীতি পুলিশের’ ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

১৩ সেপ্টেম্বর ২২ বছর বয়সী মাহশা আমিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল কুর্দিস্তান প্রদেশ থেকে রাজধানী তেহরানে আসেন। ‘অসভ্য’ পোশাক পরার অভিযোগে ইরানের নীতি পুলিশ মাহশাকে আটক করে। পরে পুলিশ হেফাজতে তার মৃত্যু হয়। তখন ইরানের কর্তৃপক্ষ দাবি করে, আটককেন্দ্রে অবস্থানের সময় তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

মাহশার মৃত্যুর পর ১৬ সেপ্টেম্বর ইরানের নাগরিকেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। তারা মাহশা আমিনির মৃত্যুর ন্যায়বিচার দাবি করেন। তারা ইরানের কর্তৃপক্ষ ও নীতি পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গ্রেপ্তার ও ভয়ভীতি উপেক্ষা করে কিছু নারী জনসমক্ষে চুল কেটে ও হিজাব পুড়িয়ে বিক্ষোভ করেন।

iran copy

বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) ইরানের ‘নীতি পুলিশের’ ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তর। একই সঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন অর্থ দপ্তর জানায়, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে নিয়মিত সহিংসতার আশ্রয় নিয়ে থাকে। তারা ইরানের সুশীল সমাজের সদস্য, রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী, নারী অধিকারকর্মী ও দেশটির বাহাই সম্প্রদায়ের লোকজনের ওপর সহিংস দমন–পীড়ন চালিয়ে আসছে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন জানান, মাহশা আমিনি একজন সাহসী নারী ছিলেন। নীতি পুলিশের হেফাজতে তাঁর মৃত্যু নিজ দেশের জনগণের বিরুদ্ধে ইরান সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর আরেকটি বর্বরতার উদাহরণ।