ট্রেনের ভেতর ভুল করে গয়নাভর্তি ব্যাগ ফেলে গিয়েছিলেন দুই যাত্রী। তারা নেমে যাওয়ার পর পড়ে থাকা ব্যাগের মালিকের খোঁজ না পেয়ে অন্য যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাগে বোমা রয়েছে এমনটি ভেবে সেটি কেউ ছুঁয়ে দেখারও সাহস করেননি। অবশেষে হাত লাগায় পুলিশ। আর তাদের সাহায্যেই গয়নাসহ ব্যাগটি ফেরত পেয়েছেন এর আসল মালিক। সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। —খবর সংবাদ প্রতিদিন।
স্থানীয় রেল পুলিশ জানিয়েছে, চিকিত্সক প্রবীর বাগ ও তার স্ত্রী সীমা বিশ্বাস গত মঙ্গলবার দুপুরে নৈহাটি থেকে গেদে লোকাল ট্রেনে চড়ে চাকদহের বাড়িতে ফিরছিলেন। অতিরিক্ত ভিড় থাকায় তারা ভেন্ডার কামরায় উঠতে বাধ্য হন। চাকদহ স্টেশনে পৌঁছানোর পর দুজনই নেমে যান। কিন্তু ভুলে যান সঙ্গে থাকা ব্যাগটি নিতে। তার মধ্যেই ছিল মূল্যবান গয়নাগুলো।
পরে অন্য যাত্রীরা দেখেন, ট্রেনে পড়ে রয়েছে মালিকবিহীন একটি ব্যাগ। পূজার মৌসুমে নাশকতার ছকে কেউ তা রেখে গেছে ভেবে হইচই শুরু করেন যাত্রীরা। বোমা আতঙ্কে অনেকেই অন্য কামরায় চলে যান। গেদে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের অভিযোগে ব্যাগটি নামিয়ে নেয় রেল পুলিশ। ব্যাগ খুলে তারা দেখতে পায়, এর ভেতরে দুটি সোনার হার, দুল, আংটি, সোনায় মোড়া শাখা, পলা, মোবাইল ফোনসহ নানা জিনিসপত্র রয়েছে। পুলিশের দাবি, ব্যাগে অন্তত সাড়ে ৭ লাখ রুপি সমমূল্যের সামগ্রী ছিল।
এদিকে হারানো ব্যাগের কথা মনে পড়তেই ছোটাছুটি শুরু করেন প্রবীর বাগ ও সীমা বিশ্বাস। প্রবীর কোচবিহারের মাথাভাঙা হাসপাতালের চিকিত্সক এবং তার স্ত্রী কালনা হাসপাতালের নার্স। দুজনে নবমীর দিন দুপুরে নৈহাটি থেকে লোকাল ট্রেনে চড়েন কিন্তু নামার সময় ব্যাগটি ফেলে আসেন। সব কাগজপত্র খতিয়ে দেখে তাদের সব মালামালসহ ব্যাগটি ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রেল পুলিশের (গেদে) ডিএসপি নরেন্দ্রনাথ দত্ত।