কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে দিনে দিনে একেবারেই হারিয়ে যাচ্ছে পাট। চাষ না হওয়ায় এটি এখন বিলুপ্তপ্রায়। মাঝেমধ্যে শুধু শাক খাওয়ার জন্য উঁচু ভিটাতে এ এলাকার মানুষদের পাট চাষ করতে দেখা যায়। চাষিরা জানান, প্রকৃতির বিরূপ প্রভাবে সোনালি আঁশ খ্যাত অর্থকরী ফসল পাট চাষ ছেড়ে দিয়েছেন তারা।
চৈত্র থেকে আষাঢ় মাস পাট চাষের উপযুক্ত সময় হলেও বৈরী আবহাওয়া, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, সময়মতো মাঠে পানি না থাকায় পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন এখানকার কৃষক। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, গত দুই দশক আগেও এ এলাকায় ব্যাপক পাট চাষ হতো। ঐ সময় পাট উত্পাদন ভালো হওয়ায় এ এলাকার চাষিরা অধিক লাভের আশায় কয়েক শ হেক্টর জমিতে পাট বুনতেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে লাভজনক এ ফসলটি লোকসানে পরিণত হওয়ায় এটি চাষ থেকে কৃষক তাদের গুটিয়ে নিয়েছেন।
উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের প্রবীণ কৃষক রহমত উল্ল্যা জানান, বিভিন্ন প্রজাতির পাট চাষ হতো এ এলাকায়। এক সময় ডাকাতিয়া নদীর তীরে অবস্থিত মনোহরগঞ্জ বাজার ঘিরে ছিল পাটের জমজমাট ব্যবসাকেন্দ্র। এ এলাকার চাষিরা উত্পাদিত পাটের অধিকাংশই বিক্রির জন্য নিয়ে আসতেন মনোহরগঞ্জ বাজারে। নিজ জেলার পাশাপাশি অন্যান্য এলাকা থেকে পাইকাররা ডিঙি নৌকা ও ট্রলার নিয়ে এ এলাকায় পাট কিনতে আসতেন। পাট বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে পাইকারদের হাঁকডাক, নেই ডিঙি নৌকার ভিড়।
পাট ও পাটজাত দ্রব্যের চাহিদা এবং গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে মনোহরগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুল মতিন বলেন, এ এলাকার উত্পাদিত পাট কুমিল্লা, চাঁদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় যেত। সোনালি আঁশখ্যাত এ পাট রক্ষায় উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষক পর্যায়ে প্রদর্শনীর মাধ্যমে উচ্চফলনশীল পাট উত্পাদন এখন সময়ের দাবি।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, আঁশের জন্য এ এলাকায় বর্তমানে কোনো পাট চাষ হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, পর্যাপ্ত পানির অভাব ও ন্যায্যমূল্য বঞ্চিত কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। শুধু বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য নয়, পাটশাক মুখরোচক পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য উপাদানও বটে। এবার শাকের জন্য ১৬ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে।
পাটের সোনালি অতীত ফিরিয়ে আনতে ও ভবিষ্যত্ কোনো পরিকল্পনা সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত কয়েক বছরে পাটের বেশ কিছু উন্নত জাত আবিষ্কৃত হয়েছে। পাশাপাশি পাট জাগ দেওয়ার উন্নত প্রযুক্তিও বের হয়েছে। যা আগের তুলনায় সহজ ও প্রযুক্তিবান্ধব। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পাটের উন্নত জাতের প্রদর্শনী ও এর যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে অবহিত করে পাট চাষে আগ্রহ বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করার কথা জানান তিনি।