বিশ্বকাপের আগে শেষ প্রস্তুতি হিসেবে আজ থেকে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ড। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে দুই দলের এটিই সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক সিরিজ।
এই সিরিজকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সেরা মঞ্চ হিসেবে মনে করছে দু দলই। সিরিজ জিতে বিশ্বকাপের আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস অর্জনের লক্ষ্য উভয় দলেরই।
পার্থে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে শুরু হবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচ।
সদ্যই অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড উভয় দলই দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে। ভারতের মাটিতে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হেরেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। তবে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতেছে অজিরা।
এদিকে পাকিস্তান সফরে সাত ম্যাচের রোমাঞ্চকর সিরিজ ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছে ইংল্যান্ড। ঐ সিরিজে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে ইংলিশরা । দলের সেরা তিন খেলোয়াড় জস বাটলার, বেন স্টোকস আর জনি বেয়ারোস্টোকে ছাড়াই পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জয় আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে ইংল্যান্ডের।
তবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টি-টোয়েন্টি চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন পাকিস্তান সিরিজে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেয়া মঈন আলি। তিনি বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। আবার নিজেদের কন্ডিশনের সুবিধাও পাবে তারা। তাই এই সিরিজটি আমাদের অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিশ্বকাপ, আবার সেখানেই সিরিজ হওয়াতে সুবিধা হবে আমাদেরও। কারন বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুর্হূতে এমন সিরিজ অনেক বেশি সাহস দিবে দলকে।’
এদিকে ইংল্যান্ডের জন্য সুখবর নিয়মিত অধিনায়ক জশ বাটলারকে দলে পেতে যাচ্ছে তারা। ইঞ্জুরি কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলবেন তিনি। কাফ স্ট্রেইন ইনজুরির কারনে দুই মাস ধরে মাঠের বাইরে ছিলেন বাটলার। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের শেষ দিকে খেলার সম্ভাবনা ছিলো তার। কিন্তু বাটলারকে নিয়ে ঝুঁকি নেয়নি টিম ম্যানেজমেন্ট।
এছাড়া ২০২১ সালের মার্চের পর আবারও ইংল্যান্ডের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে খেলবেন টেস্ট দলনেতা বেন স্টোকস। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে নিজেকে ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন স্টোকস।
তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সিনিয়রদের বিশ্রাম দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বিশ্রামে থাকবেন এডাম জাম্পা, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্স ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে খেলবেন তারা।
শুধুমাত্র সিরিজের প্রথম ম্যাচে খেলার জন্য দলে নেয়া হয়েছে মিচেল সুইপসন ও নাথান এলিসকে। ইঞ্জুরি থেকে সুস্থ হয়ে ফিরেছেন মার্কাস স্টোয়নিস, কেন রিচার্ডসন ও অ্যাস্টন আগার। বিশ্বকাপ দলে না থাকলেও, ভারত সফরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারনে এই সিরিজে নিজের জায়গা ধরে রেখেছেন ক্যামেরুন গ্রিন।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন অজি অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। তিনি বলেন, ‘ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ। তার আগে ৫টি টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পাওয়াটা দারুণ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আমি খুশি। এবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বড় পরীক্ষা। টি-টোয়েন্টিতে খুবই ভালো দল তারা। বিশ্বকাপ শুরুর আগে আগে এমন সিরিজ যেকোন দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।’
টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ২০বার মুখোমুখি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার জয় ১০টিতে, ইংল্যান্ডের ৯টিতে। বাকি ১টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে।
গত বিশ্বকাপের পর আবারও টি-টোয়েন্টিতে দেখা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের। বিশ্বকাপের ঐ ম্যাচে ৮ উইকেটে জয় পেয়েছিলো ইংলিশরা। আর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সর্বশেষ দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হয়েছিলো দুই দল। ঘরের মাঠে হওয়া তিন ম্যাচের সিরিজটি ২-১ ব্যবধানে জিতেছিলো ইংল্যান্ড।