ম্যাচটি ছিলো শুধুই নিয়ম রক্ষার। অবশেষে সেই ম্যাচে এসেই কিনা কথা বললো বাংলাদেশের ব্যাটারদেরর ব্যাট। ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষ প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭৩ রান তুলেছে বাংলাদেশ।
ক্রাইটচার্চের হ্যাগলি ওভালে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা অবশ্য একেবারেই ভালো হয়নি বাংলাদেশের।শুরুতেই দুই ওপেনার হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া বাংলাদেশকে আবারও ট্র্যাকে ফিরিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব আল হাসান আর লিটন দাস মিলে।
নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সপ্তম অর্ধশতক তুলে নিয়ে লিটন ফিরে যাওয়ার পর ফিফটি তুলে নিয়েছেন সাকিব আল হাসানও। গত ম্যাচেই নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ঝড়ো ফিফটির পর আজ পাকিস্তানের বিপক্ষেও স্ট্রোক প্লে'র পসরা সাজিয়েই টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১২তম ফিফটি পেয়েছেন টাইগার অধিনায়ক।
দুই ব্যাটারের ফিফটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৭৩ রানের বড় সংগ্রহ পেয়েছে বাংলাদেশ। ক্রাইস্টচার্চে নিয়ম রক্ষার ম্যাচে ব্যাটিংয়ে নেমে ধ্বস নামার পুরোনো জুজু ভর করলেও এবার অবশ্য আর তা নামতে দেননি লিটন দাস আর সাকিব আল হাসান। ৪১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর ৮৮ রানের জমাট এক জুটিতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছেন এই দুজন। নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৭ম ফিফটি তুলে নিয়েছেন লিটন দাস। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ নেওয়াজের বলে আউট হওয়ার আগে করেছেন ৪২ বলে ৬৯ রান। লিটন ফেরার পর ৪ চার আর ২ ছক্কায় ৩৪ বলে নিজের ফিফটি তুলে নিয়েছেন সাকিবও।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিলো বাংলাদেশের সামনে। আগেই ফাইনালের আশা শেষ হয়ে যাওয়ায় আজকের ম্যাচটি টাইগারদের জন্য শুধুই নিয়ম রক্ষার। এই ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমেও সেই পুরোনো চিত্র টাইগার ব্যাটিংয়ে। পাওয়ার প্লে'র ভেতরেই আউট হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে দুই টাইগার ওপেনারকে।
বাংলাদেশের জন্য আজকের ম্যাচটা শুধু নিয়ম রক্ষার হলেও দুঃসময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া দলের জন্য একটি জয় অবশ্য এনে দিতে পারে ইতিবাচক আত্মবিশ্বাস। অধরা সেই জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নেমে শুরুটা অবশ্য একদমই ভালো হয়নি বাংলাদেশের।
প্রথম দুই ওভারে মাত্র ৭ রান তুলতে পারে বাংলাদেশের দুই ওপেনার সৌম্য সরকার আর নাজমুল হোসেন শান্ত। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন সৌম্য। ৪ বলে ৪ রান করে নাসিম শাহের বলে ক্যাচ তুলে দেন শাদাব খানের হাতে। ৭ রানেই প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
তিন নম্বরে নেমে লিটন অবশ্য বেশ ভালোই শুরু করেন। তবে অন্যপ্রান্তে আরেক ওপেনার শান্ত তখনও ভুগছেন। শেষ পর্যন্ত পাওয়ার প্লে'র শেষ ওভারে দলের ৪১ রানের মাথায় মোহাম্মদ ওয়াসিমের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শান্ত। ফেরার আগে করেন ১৫ বলে ১২ রান।
পাওয়ার প্লে'তেই ২ উইকেট হারিয়ে বাংলাদশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪১ রান। দুই ওপেনারকে হারালেও লিটন দাসের আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়েই বড় সংগ্রহের আশা দেখতে শুরু করে বাংলাদেশ। পাকিস্তানি বোলারদের বিপক্ষে নিজের ক্ল্যাসিক আর স্ট্রোক প্লে'তে মাঠের চারদিকেই মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন লিটন।
৪১ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেট জুটিতে অধিনায়ক সাকিবকে সঙ্গে নিয়ে বেশ ভালোভাবেই দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন লিটন। ইনিংসের ১২তম ওভারে ৩১ বলেই নিজের ফিফটি তুলে নেন লিটন। ৫ চার আর ১ ছক্কায় বেশ সাবলীলভাবেই রানের চাকা সচল রাখেন তিনি।
লিটনকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন অধিনায়ক সাকিব। উইকেটে এসে ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ে প্রথম থেকেই স্ট্রোক প্লে'তে মুগ্ধ করেন গত ম্যাচেই দুর্দান্ত ফিফটি করা সাকিব। শুরুতেই উইকেট হারানোর চাপ এই দুজন মিলে সামলে নিয়েছেন ভালোভাবেই। দুজনের ভয়ডরহীন ব্যাটিংয়ে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়েছে টিম টাইগার্স।
ইনিংসের ১৫তম ওভারে এসে ভাঙ্গে এই জুটি। ৬ চার আর ২ ছক্কায় ৪২ বলে ৬৯ রান করে আউট হন লিটন দাস। লিটনের আউটের পর আরও বেশি মারমুখী হয়েছেন সাকিব। ১৭তম ওভারে ৩৪ বলে তুলে নেন নিজের ফিফটি। ফিফটি তুলে নেওয়ার পরও একইভাবে আক্রমণাত্মক হয়েই খেলেছেন টাইগার কাপ্তান। ১৯তম ওভারে ৭ চার আর ৩ ছক্কায় ৪২ বইলে ৬৮ রান করে নাসিমের বলে সাকিব যখন আউট হন দলের রান তখন ১৬৭।
সাকিব ফেরার পর ইনিংসের শেষ ৮ বল থেকে অবশ্য ৬ রানের বেশি করতে পারেননি বাংলাদেশ। ইনিংসের শেষ ওভারে ইয়াসির আলী আর আফিফের দুই উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে আটকে দিয়েছেন মোহাম্মদ ওয়াসিম।
নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৩ রান। পাকিস্তানের হয়ে নাসিম শাহ আর মোহাম্মদ ওয়াসিম নিয়েছেন দুইটি করে উইকেট।