১৬ দলের অন্দর মহল

অস্ট্রেলিয়া টি-২০বিশ্বকাপের ডামাডোল বাজতে চলেছে আজ। আগের আসরের মতোই এবারো অংশ নেবে ১৬টি দল। প্রথম রাউন্ডে  দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে নামিবিয়া, স্কটল্যান্ড শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্টইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, আরব আমিরাত ও জিম্বাবুয়ে। গ্রুপের সেরা চার দল যোগ দেবে সুপার টুয়েলভে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের সঙ্গে। 

১৬টি দলের অন্দরমহলের খবর তুলে ধরলেন আনোয়ার হোসেন সোহাগ

আফগানিস্তান

গত এশিয়া কাপে ভালোই চমক দেখায় আফগানিস্তান।  স্পিন আক্রমণ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। সেই সঙ্গে পেস বোলিংয়ে ভরসা জোগাচ্ছেন ফজলহক ফারুকি ও নাভিন উল হক। ব্যাটিংয়ে ঘাটতি অবশ্য রয়েছে। তবে রহমানউল্লাহ গুরবাজ, নাজিবুল্লাহ জাদরানরা নিজেদের দিনে যেকোনো দলের জন্য বিপজ্জনক হতে পারেন। 
 
সেরা সাফল্য : সুপার টেন (২০১৬)। সেরা তারকা : রশিদ খান।

অস্ট্রেলিয়া

গত বিশ্বকাপের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে বাজি ধরার মানুষ খুব কমই ছিল। অথচ দিনশেষে তারাই চ্যাম্পিয়ন। ঘরের মাঠে এবার সেই শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে অ্যারন ফিঞ্চের দল। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং মিলিয়ে এই দলটা বেশ পরিপূর্ণ। আবার বেশ ধারাবাহিকও বটে। গত বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে কেবল একটি পরিবর্তনই এনেছে তারা। মিচেল সোয়েপসনের জায়গায় টিম ডেভিড।

সেরা সাফল্য : চ্যাম্পিয়ন (২০২১)। সেরা তারকা : ডেভিড ওয়ার্নার।

বাংলাদেশ

টি-২০ বিশ্বকাপ আসলেই বাংলাদেশকে নিয়ে প্রত্যাশার পারদটা ক্রমশই নিচুর দিকে ঝুঁকতে থাকে। ১৬ বছর হয়ে গেল, কিন্তু এখনো সংস্করণটির সঙ্গে নিজেদের মেলাতে পারেননি টাইগাররা। যদিও টেকনিক্যাল কনসালট্যান্ট শ্রীধরন শ্রীরামের ইম্প্যাক্ট, ইনটেন্ট তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বেশ। ফল হয়তো আসেনি তবে শ্রীরামের ধারণা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের দিকেই এগোচ্ছে তার দল।

সেরা সাফল্য : সুপার এইট (২০০৭)। সেরা তারকা :সাকিব আল হাসান।

ইংল্যান্ড

সাদা বলে এই ইংল্যান্ড রীতিমতো ধ্বংসাত্মক। যেকোনো দলকে স্রেফ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তাদের ব্যাটিং গভীরতা ক্রমশই মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে। প্রতি ম্যাচেই কেউ না কেউ ব্যাট হাতে দাড়িয়ে যাচ্ছেন। তাই ম্যাচ উইনারের সংখ্যাও বেশি। তবে সেই তুলনায় বোলিংয়ে কিছুটা দুর্বল। জফরা আর্চারকে এবারও পাচ্ছে না তারা।

সেরা সাফল্য : চ্যাম্পিয়ন (২০১০)। সেরা তারকা : জস বাটলার।

ভারত

র‍্যাংকিংয়ে সেরা দল হিসেবে বিশ্বকাপে পা রাখবে ভারত। কিন্তু শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট জয় করতে পারবে তো? ২০০৭ সালে প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর প্রতিবারই শিরোপা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তাদের থেকে। গত আসরে তো সুপার টুয়েলভ থেকেই বাদ পড়ে। এই এক বছরে নতুন অধিনায়কের পাশাপাশি খেলার ধরনের পরিবর্তন আনে তারা। তবে জাসপ্রিত বুমরাহর ছিটকে পড়াটা বড় ধাক্কাই তাদের জন্য। যদিও অন্যান্য বোলারদের উপর পূর্ণ আস্থাই রাখছে টিম ইন্ডিয়া।

সেরা সাফল্য : চ্যাম্পিয়ন (২০০৭)। সেরা তারকা : সুরিয়াকুমার ইয়াদভ। 

আয়ারল্যান্ড

‘জায়ান্ট কিলার’-শব্দটি আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। বৈশ্বিক ইভেন্ট হলেই অঘটন ঘটাতে মুখিয়ে থাকে তারা। কিন্তু গত আসরে নিজেরাই হয়ে পড়ে অঘটনের শিকার। নামিবিয়ার কাছে হেরে ব্যর্থ হয় সুপার টুয়েলভে। তবে এই বছরে বেশ কিছু ম্যচে দারুণ ক্রিকেট উপহার দিয়েছে আইরিশরা। ঘরের মাঠে ভারত, আয়ারল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাপিয়ে দেয়  দলটি।

সেরা সাফল্য : সুপার এইট (২০০৯)। সেরা তারকা : হ্যারি টেক্টর।

নামিবিয়া

প্রথম বার বিশ্বকাপ  খেলতে এসেই রূপকথার গল্প লিখে ফেলে নামিবিয়া। সুপার টুয়েলভে শুধু ওঠেনি, একটি জয়ও পেয়েছে তারা। স্কটল্যান্ডকে হারিয়েছিল ৪ উইকেটে। যদিও এবারও খেলতে হচ্ছে প্রথম রাউন্ড থেকে। ফের রূপকথার গল্প লেখার জন্য তারকা খেলোয়াড় ডেভিড ভিসা, রুবেন ট্রাম্পেলম্যান ও গেরহার্ড এরাসমাসের দিকেই তাকিয়ে থাকবে আফ্রিকার দেশটি।

সেরা সাফল্য : সুপার টুয়েলভ (২০২১)। সেরা তারকা : ডেভিড ভিসা।

নেদারল্যান্ডস

টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বেশ ভালোভাবেই নিজেদের তৈরি করেছে নেদারল্যান্ডস। গ্রীষ্মে বড় দলের বিপক্ষে খেলতে নেমে চমকই দেখিয়েছে ডাচরা। গত বিশ্বকাপে ফিরতে হয়েছিল খালি হাতেই। এবার সুপার টুয়েলভে যেতে হলে নামিবিয়া ও আরব আমিরাত বাঁধা পার করাটা জরুরি। 

সেরা সাফল্য : সুপার টেন (২০১৪)। সেরা তারকা : টম কুপার।

নিউজিল্যান্ড

বিশ্বকাপে আসার আগে খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই তারা। ঘরের মাঠে পাকিস্তানের কাছে খোয়াতে হয়েছে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা। অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের ফর্মহীনতা বাড়াচ্ছে দুশ্চিন্তা। যদিও ফাইনালে রানে ফিরেছেন তিনি। তবে বিশ্বকাপ এলেই যেন এক আলাদা রক্ত বয়ে চলে কিউইদের শরীরে। তাই গত বারের রানার্সআপদের হিসেবের বাইরে রাখার কোনো কারণ নেই। কেননা অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের সঙ্গে তাদের পার্থক্য খুব কমই।  

সেরা সাফল্য : রানার্সআপ (২০২১)। সেরা তারকা : ট্রেন্ট বোল্ট।

পাকিস্তান

র‍্যাংকিংয়ে সেরা তিন ব্যাটসম্যানের দুজনেই পাকিস্তানের। তারা আর কেউ নন, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও বাবর আজম। উদ্বোধনী জুটিতে প্রতিনিয়তই পাকিস্তান লড়াকু সংগ্রহের ভিত গড়ে দিচ্ছেন তারা। তাই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ভালো-খারাপের অনেককিছুই নির্ভর করছে এই দুই ইনফর্ম ব্যাটসম্যানের ওপর। চোট কাটিয়ে দলের শক্তিমত্তা বাড়াতে মুখিয়ে আছেন পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদি।   

সেরা সাফল্য : চ্যাম্পিয়ন (২০০৯)। সেরা তারকা : মোহাম্মদ রিজওয়ান।

স্কটল্যান্ড

গত বিশ্বকাপে প্রথম রাউন্ডে বাংলাদেশকে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল স্কটল্যান্ড। যার ফলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সুপার টুয়েলভে উঠে তারা। এবারও শুরুতে তাদের সামনে বড় শিকার ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোবার্টে অঘটন ঘটাতে জ্বলে উঠতে হবে ওপেনিং জুটি জর্জ মানসি ও ক্যালাম ম্যাকলয়েডকে। তাছাড়া বড় সংগ্রহের জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে ম্যাথিউ ক্রসের ওপরও।

সেরা সাফল্য : সুপার টুয়েলভ (২০২১)। সেরা তারকা : জর্জ মানসি।

দক্ষিণ আফ্রিকা

কাগিসো রাবাদা, লুঙ্গি এনগিদি ও অ্যানরিখ নরকিয়া। টি-২০তে যে কোনো ফ্রাঞ্চাইজিই তাদের দলে নিতে চাইবে। তিন পেসার নিয়ে বেশ শক্তিশালী বোলিং অ্যাটাক দক্ষিণ আফ্রিকার। সঙ্গে লেগ স্পিনে হাত ঘুরানোর জন্য আছেন তাবরাইজ শামসি। তাছাড়া ‘পাওয়ারফুল ব্যাটিং লাইনআপ’ নিয়ে  বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই নামবে প্রোটিয়ারা।কিন্তু ‘চোকার্স’ তকমা ঘুচাতে পারবে তো?

সেরা সাফল্য : সেমিফাইনাল (২০০৯, ২০১৪)। সেরা তারকা : ডেভিড মিলার।

শ্রীলঙ্কা

গত বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার উন্নতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ভাঙ্গাচোরা সেই দলটা এখন অনেকটাই নিজেদের গুছিয়ে এনেছে। তারই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি এশিয়া কাপের চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। আর্থিক ও রাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত দেশে কিছুক্ষণের জন্য এনে দিয়েছিল আনন্দের হাওয়া। অনেকের কাছে এবারের আসরের অন্যতম ‘ডার্কহর্স’ তারা। কিন্তু তারপরও প্রথম রাউন্ড থেকেই শুরুটা করতে হচ্ছে দাসুন শানাকার দলকে। 

সেরা সাফল্য : চ্যাম্পিয়ন (২০১৪)। সেরা তারকা : ভানিন্দু হাসারাঙ্গা।

আরব আমিরাত

আট বছর পর আবারও বিশ্বকাপে খেলতে এসেছে আরব আমিরাত। বৈশ্বিক বাছাইপর্বের ফাইনালে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। তাই সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নেই। তবুও অভিজ্ঞতার তুলনায় প্রথম রাউন্ডে কঠিন গ্রুপেই পড়েছে তারা। তবে ১৫২.৩৮ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করা মোহাম্মদ ওয়াসিম জ্বলে উঠলে যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্যই আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সেরা সাফল্য : প্রথম রাউন্ড (২০১৪)। সেরা তারকা : মোহাম্মদ ওয়াসিম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

টি-২০ বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল তারা।  তবে এবারের দলটা একেবারেই নতুন। কাইরন পোলার্ড, সুনীল নারাইন, আন্দ্রে রাসেল কিংবা ক্রিস গেইল কেউই নেই। তবুও বিনোদনের ফেরিওয়ালাদের হিসেবের বাইরে রাখার সাধ্য কার। নিকোলাস পুরানের অধীনে আবারও ইতিহাস গড়তে চায় দলটি। বোলিংয়ে কিছুটা দুর্বল হলেও ভরসার নাম স্পিনার আকিল হোসেন।

সেরা সাফল্য : চ্যাম্পিয়ন (২০১২ ও ২০১৬)। সেরা তারকা : আকিল হোসেন।

জিম্বাবুয়ে

এক আসর বাদ দিয়ে আবারও বিশ্বকাপে ফিরেছে জিম্বাবুয়ে। প্রথম বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারানো ছাড়া মনে রাখার মতো স্মৃতি নেই তাদের।তবে সম্প্রতি উন্নতির ছোঁয়া লেগেছে দলটিতে। কয়েক মাস আগে ঘরের মাটিতে বাংলাদেশকে ওয়ানডে ও টি-২০ সিরিজে হারায় তারা। তাই তারা সুপার টুয়েলভে গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

সেরা সাফল্য : প্রথম রাউন্ড।  সেরা তারকা : সিকান্দার রাজা।