বাংলাদেশের ‘কম্পমান’ আশার তরি

প্রায় দেড় যুগ আগের কথা। তখন বিশ্ব ক্রিকেটে টি-২০ ফরম্যাট মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করেছে। উইকেটে লম্বা সময় স্থায়ী হতে পারেন না, হুটহাট শটস খেলে আউট হয়ে যান বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। ঐ সময় ধারণা করা হতো, এমন ক্ষণস্থায়ী ইনিংসে সিদ্ধহস্ত টাইগাররা হয়তো কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে ভালো করবেন। খুদে সংস্করণে এমন তাড়াহুড়ো খুব অপরাধের পর্যায়ে পড়ে না।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, এসব ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। টি-২০ ফরম্যাটে প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি সংগ্রাম করছে বাংলাদেশ দল। ক্রমাগত ধুঁকতে থাকা টাইগাররা ১৩৯ ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছে ৪৭টি। জয়ের হার ৩৩.৮১ ভাগ।

আধুনিক টি-২০ ক্রিকেটের সুরই যেন ধরতে পারছে না বাংলাদেশ। ভাণ্ডারে নেই প্রয়োজনীয় সব অস্ত্রও। পাওয়ার হিটার, লেগ স্পিনার, কার্যকর পেসার, মারকুটে ওপেনারের সংকট দলের মাঝে তীব্র। তাই ২২ গজে রুগ্ন পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।

যার ফলে আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপ বরাবরের মতোই বাংলাদেশের জন্য রাজ্যের হতাশা বয়ে এনেছে। বৈশ্বিক আসরে ছন্নছাড়া টাইগাররা। গত ১৫ বছর ধরে বিশ্বকাপের মূল আসরে কোনো জয় নেই বাংলাদেশের। ২০০৭ সালে প্রথম আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পাওয়া জয়টাই শেষ সোনালি স্মৃতি। মোট সাত আসরে ৩৩ ম্যাচ খেলে জয় মাত্র ৭টি।

তাই গত ১৫ বছর ধরেই কার্যত বিশ্বকাপের মূল পর্বে জয়ের হাহাকার ঘুচানোর মিশন বাংলাদেশের সঙ্গী হচ্ছে। যদিও এ মিশনে বারবারই শূন্য হাতে ফিরেছে দলটা। ২০০৯, ২০১০ ও ২০১২ সালে নেই কোনো জয়। ২০১৪, ২০১৬, ২০২১ সালে প্রথম রাউন্ড পার হয়ে চূড়ান্ত পর্বে উঠেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মূল মঞ্চে ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। তিন আসরেই বড় দলের বিপক্ষে সব ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা।

অস্ট্রেলিয়ায় আজ শুরু হচ্ছে টি-২০ বিশ্বকাপের অষ্টম আসর। বাংলাদেশের দলটার প্রতি বড় প্রত্যাশা নেই কারোই। নিরাশার সাগরে দুলছে লাল-সবুজের বিশ্বকাপ তরি।

বাংলাদেশের জন্য এবার স্বস্তি খবর যে, খেলতে হচ্ছে না প্রথম রাউন্ড। র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকায় সরাসরি সুপার টুয়েলভ পর্বে খেলবে সাকিব আল হাসানের দল। যেখানে গ্রুপ-২ এ বাংলাদেশের সঙ্গী ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং প্রথম রাউন্ডের ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন, ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল।