কতটা নড়বড়ে লিজের গদি? 

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় বসেছেন পাঁচ সপ্তাহ পার হয়েছে লিস ট্রাসের। এর মধ্যেই টালমাটাল অবস্থায় পড়েছেন তিনি। লড়ছেন গদি রক্ষার লড়াইয়ে। সময় যত গড়াচ্ছে লিজ ট্রাস ততই খাদের কিনারায় পড়ছেন। ছয় দিনের মধ্যে তিনি তার সরকারের সবচেয়ে সিনিয়র মন্ত্রীদের দুইজনকে তাদের পদ থেকে হারিয়েছেন। 

প্রায় তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে সংক্ষিপ্ত বাজেট ঘোষণা করেন সে সময়ের অর্থমন্ত্রী কাওয়াসি কোয়ারতেং। ওই বাজেটে কর ছাড়ের ছড়াছড়ি থাকায় বেশ বিতর্কের জন্ম দেয়। পুঁজিবাজারেও অস্থিরতা শুরু হয়। এক পর্যায়ে মার্কিন ডলারের বিপরীতে যুক্তরাজ্যের মুদ্রা পাউন্ড মূল্যমান হারিয়ে কয়েক দশকের সর্বনিম্ন অবস্থানে চলে যায়। এরপরেই গত শুক্রবার  প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটে লিজ ট্রাসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কাওয়াসি। এর পর দায়িত্ব ছাড়ার কথা জানান। 

এই রেশ কাটতে না কাটতেই দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রাভারম্যান গতকাল বুধবার পদত্যাগ করেন। এতে আরও বিপাকে পড়েছেন লিজ। বিবিসি বলছে, ‍সুয়েলা মাত্র ৪৩ দিন দায়িত্ব পালন করেছেন। 

এছাড়া গত মঙ্গলবার স্কাই নিউজ বলছে, লিজ ট্রাসের নিজ দল কনজারভেটিভ পার্টির ৮০ শতাংশের বেশি সদস্য মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী খারাপভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে ৫৫ শতাংশ সদস্য লিজের পদত্যাগ চাচ্ছেন। 'ইউগভ'-এর নতুন জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। নতুন এই জরিপে বলা হয়েছে, লিজ ট্রাস গত দুই দশকের মধ্যে এখন দেশটির রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অজনপ্রিয়।

ছবি সংগৃহীত  

ডেইলি মিরর জানিয়েছে, নিজের দল কনজারভেটিভ পার্টির শতাধিক এমপি ট্রাসের প্রতি অনাস্থার চিঠি দলীয় কমিটির প্রধান গ্রাহাম ব্র্যাডির কাছে জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। দলীয়ভাবে অনাস্থা আনতে এমপিরা গ্রাহাম ব্র্যাডিকে তাগাদা দেবেন। 

বিবিসি আজ তাদের লাইভ প্রতিবেদনে বলছে, সর্বশেষ দুই টোরি এমপি হেনরি স্মিথ এবং স্টিভ ডাবল লিজ ট্রাসের পদত্যাগ চেয়েছেন। টাইমস রেডিওকে স্মিথ বলেন, আমাদের নতুন নেতৃত্ব দরকার, আমাদের সঠিক নেতৃত্ব প্রয়োজন। ব্রিটেনের বিরোধী দলের নেতা ও লেবার পার্টির প্রধান স্যার কেয়ার স্টারমারও পুনরায় দেশটিতে নতুন করে জাতীয় নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। 

গতকাল বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে বিরোধীদলের ডাকে হওয়া ‘ফ্র্যাকিং ভোট’ নিয়ে আইনপ্রণেতারা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। পার্লামেন্টে কনজারভেটিভ পার্টির ৩৫৭ এমপি থাকলেও ‍লেবার পার্টির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন মাত্র ৩২৬ জন। এমন ভোটের পর প্রকাশ্যে একপ্রকার ঝগড়ার জড়ান কনজারভেটিভ এমপিরা। সেটি ট্রাসের প্রশাসনের বিষয়ে আস্থা ভোট কি না তা নিয়ে প্রকাশ্যে তর্কাতর্কিত হয়।   

এছাড়া বুধবার শেষের দিকে দেশটির ক্যাবিনেট মন্ত্রীরা প্রাইভেট আলোচনায় বসেন। সেখানের আলোচনার মূল বিষয় ছিল লিজ ট্রাসের পদত্যাগ করা উচিত কি না। এই আলোচনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি এই তথ্য জানিয়েছেন। ট্রাস সরকার টিকতে পারবে কি না- এর জবাবে একজন টোরি এমপি বলেছেন, আমার মনে হয় না।  বিবিসি, সিএনএন, আল-জাজিরা