ছাত্রীকে হেনস্তা, মধ্যরাতে ইবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) খালেদা জিয়া হলের এক আবাসিক ছাত্রীকে ছাত্রলীগকর্মীর থাপ্পড় মারার অভিযোগে মধ্যরাতে আন্দোলনের নামে ইবি ছাত্রীরা। পছন্দের সিটে ওঠাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পপি খাতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। 

বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলের সামনে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এতে হলের শতাধিক আবাসিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর আগে সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এই হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীরা।

kustoa islami university-2

হল ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, খালেদা জিয়া হলের নতুন ব্লকের ২০৪ নম্বর রুমে সিটে ওঠেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের সৈয়দা সায়মা রহমান। এ সময় তাকে পছন্দ মতো সিট না দেওয়া হলে পপিসহ কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থীর সাথে তার বাকবিতণ্ডা জড়িয়ে পড়েন। এ সময় সায়মা তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। 

এদিকে সায়মার সহপাঠীদের দাবি, এ ঘটনায় সায়মাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। 

হলের শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের উপর মিথ্যা অভিযোগ আনার জন্য সায়মা অসুস্থ হওয়ার নাটক সাজিয়েছে।

পরবর্তীতে সায়মা বিষয়টি তার পরিচিত ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাফিজকে জানালে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে পপিকে হেনস্তা করে হাফিজ। এ সময় পপিকে মারধর করার চেষ্টা করে। মারধরে বাধা দিতে গেলে পপির সাথে থাকা এক ছেলেবন্ধু আহত হয় বলে জানা গেছে। 

এ ঘটনায় বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়ে খালেদা জিয়া হলের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে। সেই সঙ্গে হলের মেয়েদের নিরাপত্তার পাশাপাশি অভিযুক্ত হাফিজের ছাত্রত্ব বাতিল ও আজীবন বহিষ্কারের দাবি জানায়।  
এছাড়া হাফিজকে অভিযোগ করে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা তৈরি করাতে সায়মা রহমানকে বেগম খালেদা জিয়া হল থেকে বহিষ্কার করারও দাবি জানান তারা। 

খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. ইয়াসমিন আরা সাথী ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে রাত এগারোটার দিকে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পপি খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, আমরা হলের নিয়ম অনুযায়ী ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলি। তবে সে তার ছেলে বন্ধুকে দিয়ে আমাকে হেনস্তা করে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এই লজ্জাজনক ঘটনার বিচার চাই। 

এ বিষয়ে সায়মা রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সে হল প্রভোস্টের তত্ত্বাবধানে থাকায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। 

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সায়মার একজন সহপাঠী জানান, আজকে সকালে সায়মাকে তার হলের সিনিয়ররা মানসিক নির্যাতন করে। ফলে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সায়মা এখনো অসুস্থ। তাকে আবারও রাতে চিকিৎসা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত হাফিজ বলেন, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। পপির সাথে আমার কোনো ঝামেলা হয়নি। বহিরাগত এক ছেলের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়। তখন ঐ ছেলের সাথে পপি উপস্থিত ছিল।

শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জয় বলেন, বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এর সঙ্গে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত থাকলে পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

kustoa islami university-3

খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. ইয়াসমিন আরা সাথী বলেন, এ ঘটনার যথাযথ বিচার করা হবে। মেয়েদের দাবির একটি ছিলো জুনিয়র মেয়েকে হল থেকে আজকেই বের করে দেওয়া। আমি তাকে নিয়ে যাচ্ছি। কালকে (শুক্রবার) হল বডিকে নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হবে। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, এই সব বিষয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারি না। আমরা প্রক্টর স্যারকে বিষয়টি জানাবো। কাল (শুক্রবার) তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিবেন।