আগামী ২৯ অক্টোবর রংপুরে অনুষ্ঠিত হবে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ। এর দুই দিন আগে ৩৬ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে জেলা মোটর মালিক সমিতি। সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ যানবাহনের চলাচল বন্ধের দাবিতে শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) ভোর ৬টা থেকে শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে এ ধর্মঘট।
রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলা থেকে এসে অবস্থান নিয়েছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা । তারা বলছেন, সরকার এর আগে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনায় গণসমাবেশ ঠেকাতে পরিবহন ধর্মঘটের নামে বাধা সৃষ্টি করেছিল। একই অবস্থা এখন রংপুরেও বিরাজ করছে। ধর্মঘটের বিষয়টি মাথায় রেখে অনেকে আগেই সমাবেশস্থলে এসেছেন।
বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় বাসগুলো ছেড়ে যাওয়ার কথা রংপুরে বিএনপি সমাবেশস্থলের উদ্দেশে। দুপুর থেকেই এসব বাসে সিট নেওয়ার জন্য কর্মীর উপচে পড়া ভিড়। আগামীকাল শনিবার বিকেলে গণসমাবেশ হলেও ভোর থেকেই মাঠে থাকবেন তারা। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি-সংবলিত গেঞ্জি পরিহিত কর্মীরা দল বেঁধে যাচ্ছেন সেখানে। গতকাল সন্ধ্যায় লালমনিরহাট থেকে ট্রেনে রংপুর স্টেশনে এসেছেন মিরাজুল ও সবুজের নেতৃত্বে ৬০-৭০ জন নেতা-কর্মী।
তারা জানালেন, বাস বন্ধের আশঙ্কা থেকে দু'দিন আগেই রংপুরে এসেছেন তারা। এভাবে তাদের এলাকা থেকে আরও অনেকে আসছেন। স্টেশনে তারা চিড়া-মুড়ি খেয়েই রাত পার করবেন। বাড়ি থেকে আসার সময় নিয়ে এসেছেন পানি, চিড়া ও কম্বল।
রংপুর জেলা যুবদলের সভাপতি নাজমুল আলম নাজু বলেন, ‘সমাবেশ হবে শনিবার, অথচ দলের নেতা-কর্মীরা বুধবার থেকেই রংপুরে আসতে শুরু করেছেন। সরকার যেভাবে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন ও সভা-সমাবেশ বাধাগ্রস্ত করছে, তার প্রতিবাদ জানাতে তৃণমূল প্রস্তুত। বিভাগীয় এই গণসমাবেশ সফল করতে দলের অনেক কর্মী ও সমর্থক নিজের জমি পর্যন্ত বন্ধক রেখে, কেউবা গরু-ছাগল বিক্রি করে এখানে ব্যয় করছেন। এই ভালোবাসা দেশের জন্য, বিএনপির জন্য। কারণ বিএনপি বর্তমানে যে দাবি নিয়ে আন্দোলন করছে, তা গণমানুষের দাবিতে রূপ নিয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, শনিবার রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে সবচেয়ে বড় গণজমায়েত হবে।’