ঝিনাইদহে মৃতপ্রায় নদীতে পুকুর কেটে মাছ চাষ

ঝিনাইদহ জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদনদীগুলো আজ মৃতপ্রায়। আর এসব নদীর ভেতর পুকুর কেটে মাছ চাষ করছেন এলাকার প্রভাবশালীরা। এতে নদীগুলোর প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। বদলে যাচ্ছে গতিপথ। সে সঙ্গে নদীগুলোর মৃত্যু আরো ত্বরান্বিত হচ্ছে।  এতে দেশি প্রজাতির বিভিন্ন মাছ বিলীন হচ্ছে।

এ জেলার অন্যতম নদ কুমার। চুয়াডাঙ্গা জেলার মাধাভাঙ্গা নদী থেকে কুমারের উৎপত্তি। উৎস মুখে বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কুমারকালী ও ডাকুয়া নদীর মাধ্যমে গড়াই থেকে প্রবাহ পেত। জিকে প্রকল্প বাস্তবায়নকালে কালী ও ডাকুয়া নদীর উৎস মুখে বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কুমার চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মধুমতীতে মিশেছে।  কুমারের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। এ নদীতে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার  জোড়াদহ  ইউনিয়ন এলাকায় নদীর ভেতর পুকুর কেটে মাছ চাষ করছেন এক প্রভাবশালী। তাকে কিছু বলার সাহস কারো নেই। শৈলকুপা শহরের পাশে কুমারের বুকে এক প্রকল্প খাড়া করে মাছ চাষের জন্য একটি পুকুর কাটা হয়। কিন্তু এখানে আর মাছ চাষ করা হচ্ছে না। নতুন ব্রিজের পাশে নদীর মধ্যে বাড়িঘর তৈরি ও গাছপালা লাগানো হয়েছে। দখল উচ্ছেদ করতে গিয়ে মামলা খেয়ে হাত গুটিয়ে বসে আছে উপজেলা ভূমি অফিস।

নবগঙ্গা নদীর উৎপত্তিও চুয়াডাঙ্গা জেলার মাথাভাঙ্গা থেকে। নদীর উৎসমুখ বন্ধ হয়ে নদীটি আজ মৃত। নদীটি চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভাটিতে মধুমতীতে মিশেছে। হরিণাকুণ্ডু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এটি অবৈধ দখলদারদের কবলে পড়েছে। তারা নদীতে বাঁধ দিচ্ছে, পুকুর কেটে মাছ চাষ করছে। চিত্রা নদীরও উৎপত্তিস্থল চুয়াডাঙ্গা জেলার দর্শনার কাছ থেকে মাথাভাঙ্গা নদী থেকে। চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও নড়াইল জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভাটিতে ভৈরব নদীতে মিশেছে। নড়াইল জেলায় নদীটি জীবিত আছে। কিন্তু উজানে মৃত। ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ চিত্রার ৬৭ কিলোমিটার পড়েছে ঝিনাইদহ জেলাতে। ঝিনাইদহ সদর, কোটচাঁদপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে  দখল করে পুকুর খনন করে মাছ চাষ করা হচ্ছে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার শ্রীপুর থেকে শিবনগর হয়ে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত নদীবক্ষে অন্তত ১০টি পুকুর খনন করে মাছ চাষ করছে এলাকার প্রভাবশালীরা। শ্রীপুর এলাকায় মোজাম্মেল হক ওরফে পল্টু মিয়া নামে এক ব্যক্তি বিশাল এক পুকুর খনন করে মাছ চাষ করে আসছেন। তার ছেলে বাবুল হোসেন বলেন, তারা এরশাদের আমল থেকে নদীতে পুকুর কেটে মাছ চাষ করে আসছেন। এ পর্যন্ত কেউ তাদের উচ্ছেদ করেননি। সরকার চাইলে তারা সরে যাবেন। মহেশপুরের সীমান্ত নদী কোদলা। এ নদীর ভেতরে শামন্তা এলাকায় পুকুর কেটে মাছ চাষ করা হচ্ছে। নদনদীগুলো দখল করে পুকুর খনন বা বাঁধ দিয়ে মাছের চাষ করায় গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। সে সঙ্গে মৃত্যু আরো ত্বরান্বিত হচ্ছে।

ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আশিকুর রহমান বলেন, নদীর জায়গা সরকারের এক নম্বর খতিয়ানভুক্ত। মালিক সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা প্রশাসকগণ। পানি উন্নয়ন বোর্ড দেখাশোনা করে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মুনিরা বেগম বলেন, হরিণাকুণ্ডু ও কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে নবগঙ্গা ও চিত্রা নদী অবৈধভাবে দখল করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অবৈধ দখলদারের তালিকা তৈরি করে উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়াও নদী দুটি খননের জন্য পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।