বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব জুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয় এবং তন্মধ্যে প্রায় ১৫ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় মেটাতে গিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায়। বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ অ্যাকাউন্টের তথ্য অনুসারে (১৯৯৭-২০১৫), স্বাস্থ্যসেবায় মোট যে অর্থ ব্যয় হয়, তার প্রায় ৬৭ শতাংশ একজন রোগী নিজের পকেট থেকে ব্যয় করেন এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে ১৬ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন না। আবার যেসব দরিদ্র রোগী চিকিৎসাসেবা নেন, তাদের অধিকাংশকেই ঋণে জর্জরিত হতে হয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ব্যয় নিজের পকেট থেকে খরচ করতে গিয়ে প্রতি বছর প্রায় ৬৪ লাখ বাংলাদেশি দরিদ্র থেকে আরো দরিদ্র হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে ব্যক্তির নিজস্ব পকেট থেকে সিংহভাগ ব্যয় হওয়ার কারণে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগ সীমিত হয়ে যায়, সেবা প্রাপ্তিতে অসমতা তৈরি হয় এবং দারিদ্র্য বৃদ্ধি পায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে বাংলাদেশের প্রায় ৪৯ শতাংশ মানুষ প্রয়োজনের সময় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার একটি বড় অংশ জনগণ বহন করলেও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দালালদের কারণে রোগীরা সীমাহীন হয়রানির শিকার হন এবং বিদ্যমান সেবার মানও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা উচ্চমূল্যের হওয়ায় তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে কিডনি, লিভার, ক্যানসার, হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার মাত্রা কয়েক গুণ বেড়েছে। আবার আর্থসামাজিক উন্নয়নের ফলে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়ে ৭২ বছর হয়েছে, প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা মেটানো অত্যাবশ্যকীয়। জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ২৫ থেকে ৫৪ বছর, এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর জীবনকে সুরক্ষিত রাখতে এবং তাদের আর্থিকভাবে সচ্ছল রাখতে তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার ধারণা সবার জন্য মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবার ওপর জোর দেয়। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে, সব মানুষ প্রয়োজনের সময় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবে এবং নাগরিকেরা আর্থিকভাবে অসচ্ছল হলেও চিকিৎসাসেবা পেতে গিয়ে আরো দরিদ্র হয়ে পড়বে না। সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে। সহজভাবে বললে স্বাস্থ্যবিমা হলো নানা অসুস্থতার কারণে সৃষ্ট চিকিৎসা ব্যয় মেটানোর অগ্রিম স্বাস্থ্য ব্যয় পরিশোধপদ্ধতি। কার্যকর স্বাস্থ্যবিমা থাকলে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা ব্যয় যেমন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বেড়ে যাবে না, তেমনি সঠিক সময়ে জরুরি স্বাস্থ্যসেবাও নিশ্চিত হবে। তাই বাংলাদেশে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়নে কার্যকর স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে যেখানে সব নাগরিক সহজভাবে, কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন।
কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমাব্যবস্থা চালু করলেও দেশের ৯৯ শতাংশেরও বেশি মানুষ স্বাস্থ্যবিমার আওতার বাইরে রয়েছে। বিগত কয়েক বছরে বৈদেশিক অর্থায়নে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি নামে হেলথ কার্ড টাঙ্গাইল জেলার ১ লাখ হতদরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রতিটি পরিবারের জন্য বছরে ১ হাজার টাকা প্রিমিয়াম দেওয়া হয় এবং কার্ডধারীরা উপজেলা ও জেলা হাসপাতাল থেকে ৫০টি রোগের সেবা পেয়ে থাকেন। স্বাস্থ্য অর্থ ইউনিটের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১ শতাংশেরও কম মানুষ স্বাস্থ্যবিমা গ্রহণ করেছে। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যবিমা সম্পর্কে অবহিত নন, আবার যারা জানেন তারা সচেতন নন। জনসংখ্যার বিশাল অংশ যারা মানসম্মত ও সহজলভ্য চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত তাদের ব্যাপারে আমাদের সংবেদনশীল হতে হবে এবং তাদের স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় আনতে হবে।
এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারত ইতিমধ্যে কয়েক ধরনের স্বাস্থ্যবিমা চালু করেছে। রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প আয়ুষ্মান ভারত যোজনার অধীনে দরিদ্র মানুষের বিনা মূল্যে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নানা ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকে এবং একটি স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে স্বাস্থ্যবিমাকারীর যাবতীয় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সেবা প্রদান করা হয়। এই স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পটি নারী, শিশু এবং ষাটোর্ধ্ব বয়স্ক নাগরিকদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রেখে তৈরি করা হয়েছে। এই বিমায় সরকার নিজেই প্রিমিয়াম দেয় এবং একটি পরিবার প্রতি বছর ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা পেতে পারে। এই স্বাস্থ্যবিমা ক্যানসার এবং হূদেরাগের মতো অসুস্থতার জন্যও প্রযোজ্যও এই বিমার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে চিকিৎসায় রোগীর পকেট খরচ কমিয়ে আনা এবং এই স্বাস্থ্যবিমার আওতাধীন জনগণের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি সহজতর করা।
সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে আমাদের দেশে নানা ধরনের স্বাস্থ্যবিমার প্রচলন ঘটাতে হবে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার বাস্তবতায় স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির আওতায় সবাইকে একসঙ্গে সংযুক্ত করা না গেলেও ধাপে ধাপে এটি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। স্বাস্থ্যবিমা ব্যবহারকারীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজভিত্তিক বিমা সেবার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিমাকারী তার প্রয়োজন এবং আয়ের অনুপাত অনুসারে স্বাস্থ্যবিমা প্যাকেজ গ্রহণ করতে পারবে। আয়ের অনুপাত ও পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী বিমার প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা যেতে পারে। হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্তদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনার পরিকল্পনায় স্বল্পমূল্য বা বিনা মূল্যে বিমার প্রিমিয়াম নির্ধারণ করতে হবে। দরিদ্র ও ছিন্নমূলজনগোষ্ঠী যেন স্বাস্থ্যবিমার সুবিধা ভোগ করতে পারে তা নিশ্চিতে সরকারিভাবে বিমার সিংহভাগ প্রিমিয়াম, সম্ভব হলে সম্পূর্ণটাই দেওয়া যেতে পারে।
শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি হাসপাতালগুলোও স্বাস্থ্যবিমা সেবা প্রদানের জন্য নিবন্ধিত করা যেতে পারে। স্বাস্থ্যবিমা ব্যবহারকারীরা নিবন্ধিত হাসপাতালগুলো থেকে বিমার আওতাধীন রোগের চিকিৎসাসেবা নির্ধারিত খরচের মধ্যে পাবেন। আবার স্মার্টকার্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা ব্যবহারকারীদের রোগসংক্রান্ত সব তথ্য সংগ্রহ করা গেলে নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে সহজে ও দ্রুততম সময়ে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়া যাবে। হাসপাতালগুলো সরাসরি বিমা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্ধারিত চিকিৎসাসেবা খরচ নিয়ে নিতে পারবে এবং রোগীর কোনো হয়রানি পোহাতে হবে না।
বিমার উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব থাকায় স্বাস্থ্যবিমাকে আর্থিক ব্যবস্থাপনার একটি উপযোগী মাধ্যম হিসেবে চিহ্নিত করতে আমরা সক্ষম হইনি। আবার বিমাসেবা প্রাপ্তি জটিল এবং দীর্ঘ এমন ধারণা থেকেও অনেকে স্বাস্থ্যবিমার সঙ্গে যুক্ত হতে অনীহা প্রকাশ করেন। চিকিৎসাসেবার গুণমান ও পরিধি বৃদ্ধির জন্য স্বাস্থ্যবিমার ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করে তুলতে হবে। স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে মানুষের চিকিৎসা ব্যয় বহুলাংশে কমে যাবে এবং মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবে।
এটি অনস্বীকার্য যে, অর্থ ছাড়া মানসম্পন্ন সেবা দেওয়া সম্ভব নয়। স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব। বর্তমান অর্থনীতির গতিশীলতাকে বিঘ্নিত না করেও, সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকে আমাদের দেশ স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বৃদ্ধি করতে সক্ষম। স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ালে তা দারিদ্র্য নিরসনে ও অসমতা দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে, আবার শ্রমশক্তি বৃদ্ধি পাবে ও অর্থনীতিতে উৎপাদনশীলতাও বাড়বে।
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবার অর্থায়ন আসে সরকারি সাধারণ কর ব্যবস্থা থেকে। স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে, দরিদ্রদের জন্য বিনা মূল্যে বা স্বল্পমূল্যে স্বাস্থ্যবিমা চালু করতে কিংবা স্বাস্থ্য খাতে অর্থায়ন বাড়াতে কার্যকরভাবে কর ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটাতে হবে। কর প্রশাসনের আধুনিকায়ন, কর আইনগুলোর সংস্কার ও কর কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর আদায়ে দুর্নীতি ও হয়রানি রোধ করতে হবে।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের অন্যতম প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন সাধন করা। দেশের সব ধরনের উন্নয়নের স্থায়িত্বের জন্য সবার আগে জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সামাজিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার আদর্শগত অবস্থান থেকেও স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তিতে সমতা প্রতিষ্ঠা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অধীন সদস্য রাষ্ট্রসমূহ সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০১২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউএইচসি) সংক্রান্ত প্রস্তাবে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। ২০১৯ সালেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইউএইচসির পক্ষে প্রতিশ্রুতি দেয় বাংলাদেশ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১৭টি উদ্দেশ্যের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সবার জন্য সুস্বাস্থ্য। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে জনগণকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় আনতে বাংলাদেশ অঙ্গীকারবদ্ধ।
সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বাস্তবায়নে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যবিমা চালু একটি কার্যকর পদক্ষেপ হতে পারে, যদিও স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির প্রচলন এবং বাস্তবায়নে বাংলাদেশের অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সীমিত সম্পদের বিপরীতে জনসংখ্যার বিস্ফোরণ স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচির বাস্তবায়নে প্রধান চ্যালেঞ্জ। এত বিশালসংখ্যক জনগণকে বিশেষত নিম্নবিত্ত ও দরিদ্রদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নিয়ে আসা সহজ নয়। স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর ব্যবস্থার কার্যকর পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যবিমার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করে তোলার মাধ্যমে ধাপে ধাপে স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা যাবে। দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যসেবার আওতা সম্প্রসারিত করতে ও প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠা করতে প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রতিজ্ঞা ও দৃঢ় নেতৃত্ব। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুদৃঢ় নেতৃত্বই সামাজিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠায় সবার জন্য স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থার প্রবর্তন করতে পারে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণাপত্রে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি প্রবর্তনের ঘোষণা দিতে পারে। মানুষের প্রয়োজন এবং আর্থিক ব্যবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যবিমা পদ্ধতির প্রচলন করা, হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্তদের জন্য স্বল্পমূল্যে বা সরকারি খরচে বিমার প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা এবং স্বাস্থ্যবিমাকে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করার জন্য কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় রূপরেখা প্রণয়নের ঘোষণা আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ঘোষণাপত্রের অঙ্গীকার হলে সেটি দেশের উন্নয়নকে টেকসই করবে এবং আপামর মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে।
লেখক :আইনজীবী ও বাংলাদেশ আওয়ামী মহিলা লীগের আন্তর্জাতিক সম্পাদক