বাংলাদেশকে সম্মান করে ভারত

খুব বেশি সময় আগের কথা নয়। বাংলাদেশের সঙ্গে সিরিজ থাকলেই দ্বিতীয় সারির দল পাঠাত ভারত। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশি ক্রিকেট সমর্থকরা কিছুটা অসম্মানিত বোধ করেন বলেই দেখা যায়। তবে দিনশেষে দ্বিতীয় সারির দল নিয়েই দাপট দেখাত ভারত।

কিন্তু এখন সময় বদলেছে। টাইগাররাও তাদের শক্তিমত্তার ধার বাড়িয়েছে। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ হারার পর টনক নড়েছে ভারতের। এখনো যে কোনো সিরিজেই পূর্ণশক্তির দল সাজায় তারা। গত পরশু আসন্ন বাংলাদেশ সফরের জন্য দল ঘোষণায় এরই প্রতিচ্ছবি দেখা গেল আবারও। টি-২০ বিশ্বকাপে আজ বাংলাদেশের বিপক্ষে নামার আগে ভারতের হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের কণ্ঠেও একই সুর। টাইগারদের প্রবল সমীহ করেই মাঠে নামবেন তারা। হালকাভাবে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। বিশেষ করে এই বিশ্বকাপে।

গতকাল অ্যাডিলেডে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে  বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ভারতের তুলনায় নিজেদের দুর্বল দল হিসেবেই প্রকাশ করেন। কিন্তু দ্রাবিড় তেমনটা ভাবছেন না, ‘আমরা তাদের প্রচুর সম্মান করি। আমি মনে করি তারা খুব ভালো দল। এই ফরম্যাট ও এই বিশ্বকাপ সত্যিই আমাদের দেখিয়েছে, কোনো দলকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ড সেটাই করে দেখিয়েছে।’

২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর এবারই প্রথম অস্ট্রেলিয়ায় খেলছে বাংলাদেশ। তবে ভারতের ক্ষেত্রে তা ভিন্ন। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে গত সাত বছরে দুইবার অস্ট্রেলিয়া সফর করেছে তারা। তাই কন্ডিশন ও ভেন্যুর ব্যাপারে বাংলাদেশের কিছুটা এগিয়েই থাকবে। দ্রাবিড়ের মতে, খেলার ব্যবধানটা গড়ে দিতে অ্যাডিলেডের বড় বাউন্ডারি। তিনি বলেন, ‘এই কন্ডিশনে খেলাটায় আরো সমতা চলে আসে কারণ অনেক বড় বাউন্ডারি। উপমহাদেশে কিছু শট অনায়াসে ছক্কা হবে, কিন্তু এখানে এরকম কিছু বড় শট এমনটা সহজে হবে না, আউট হয়ে যাবে। আবহাওয়ার কথা বাদ দিলে এসব বিবেচনায় এটি দারুণ টুর্নামেন্ট। খেলার ধরন অনুযায়ী এটি দুর্দান্ত আসর।’

উইকেট নিয়ে দ্রাবিড় বলেন, ‘কাল (আজ) যখন আসব তখন খুবই ফ্ল্যাট উইকেট হতে পারে। রান হতে পারে ১৮০-র মতো। তবে আমার কাছে মূল বিষয়টি হলো এই কন্ডিশন ও বাউন্ডারির সঙ্গে নিজেদের ভালোভাবে মানিয়ে নেওয়া। যারা নিজেদের সেরাটা দেবে তারাই সম্ভবত সেরা চারে জায়গা করে নেবে এবং অবশ্যই ফাইনালেও।’