অনেক প্রাপ্তির অ্যাডিলেডে আজ কি হবে আরেকটি ইতিহাস?

প্রতিপক্ষ ভারত, লড়াইটা বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার। ভেন্যু? বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সুখস্মৃতির অ্যাডিলেড ওভাল। ২০১৫ সালে এই মাঠেই ইংলিশদের হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে যাওয়ার নজির গড়েছিলো টাইগাররা।

আজ আরেকটি বিশ্বকাপ, ফরম্যাটটা ভিন্ন, তবে নিজেদের স্মৃতিবিজড়িত অ্যাডিলেডেই আজ আরেকটি ইতিহাস গড়ার হাতছানি টাইগারদের সামনে। আজ ভারতকে হারিয়ে কি আরেকটি নতুন ইতিহাস লিখতে পারবে সাকিব আল হাসানের দল?

অ্যাডিলেড ওভালে আজ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আজ ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। পয়মন্ত এই ভেন্যুতেই টাইগারদের এমন কিছু অর্জন রয়েছে যা দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসেই উল্লেখযোগ্য স্থান করে নিয়েছে। এই অ্যাডিলেড ওভালেই ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার ইতিহাস গড়েছিলো বাংলাদেশ। 

ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সেদিন মাশরাফি বিন মর্তুজার দল গড়েছিলো অবিশ্বাস্য এক নজির। বাংলাদেশের ক্রিকেটের নবজাগরণেরও শুরু হয় বছর সাত আগের সেদিনের সেই ম্যাচ দিয়েই। ঐ জয়ের পরই ওয়ানডে ক্রিকেটে শক্তিশালী দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ।

সাত বছর পর সেই অ্যাডিলেড ওভালেই ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে নামা বাংলাদেশ যেন আজ সেদিনের মতো অবস্থাতেই দাঁড়িয়ে। আজকের ম্যাচে একটি জয়ই  প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিয়ে যেতে পারে টাইগারদের।

স্বাভাবিকভাবেই টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটটা বাংলাদেশের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জের। কিন্তু এই ফরম্যাটে শক্তিশালী দল হয়ে উঠার চেষ্টা করছে টিম টাইগার্স। আজ প্রতিবেশী ভারতের  বিপক্ষে একটি জয়, ২০১৫ সালের ওয়ানডে ফরম্যাটের মতো এই ফরম্যাটেও দেশের ক্রিকেটের নবজাগরণ শুরু করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাই পালন করতে পারে।

ইতিহাস সম্পর্কে বেশ সচেতন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ম্যাচের আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বীকার করেছেন, অতীতে এই ভেন্যুতে পাওয়া জয় থেকে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। সাকিব যখন অনুপ্রেরণার কথা বলছেন, তখন এটি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন বাস্তবমুখি মানুষ হিসেবে সবসময় আবেগ লুকিয়ে রাখতে পারেন না তিনি।

সাকিব বলেন, ‘সেই দল থেকে আমরা মাত্র দু’জন (আমি এবং তাসকিন) আছি। এটি খুবই ভালো স্মৃতি। আশা করি, এই স্মৃতি আমাদের এখানে সাহায্য করবে।’

সাকিব আরও বলেন,  ‘ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে আন্ডারডগ হিসেবে নামবে বাংলাদেশ। আমরা জিতলে এই জয়কে অঘটন হিসেবেই বলা হবে। এটি নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই। অঘটন ঘটিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দৌঁড়ে টিকে থাকার চেষ্টা করবে দল।’

সাকিব বলেন, ‘আমাদের পরের দু’টি ম্যাচ ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে। তাদের বিপক্ষে জয়কে হয়তো অঘটনই বলা হবে, কিন্তু আমরা সেই অঘটনের চেষ্টাটাই করবো।’