শীতের শুরুতে বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য পাখির দেখা মেলে চলনবিলে। এ সময় পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। বিশেষ করে শীত মৌসুমে বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় সময় রাতের অন্ধকারে পাখি নিধন করা হয়। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও সচেতনতার অভাবে মুক্ত আকাশের ডানা মেলে উড়ে বেড়ানো পাখিগুলো অবাধে নিধন করে চলেছেন শিকারিরা।
চলনবিলঅধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলার তিন জন পাখিশিকারি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা সন্ধ্যার পরে চলনবিলের বিস্তীর্ণ মাঠের অনাবাদি পতিত জমির মধ্যে পাখি ধরার জন্য কারেন্ট জাল ও বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ পেতে রাখি। রাতভর আশপাশেই শুয়ে থাকি। ভোর বেলায় জাল ও ফাঁদ থেকে পাখিগুলো ছাড়িয়ে বেচে দিই। শিকারিরা আরো বলেন, পাখির গোশেতর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। লোকজন আগে থেকেই যোগাযোগ করেন পাখি কেনার জন্য। অনেকে অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখেন। এরপর গোপনে তাদের কাছে পাখি পৌঁছে দিতে হয়। রবিবার দিবাগত রাতে ঐ তিন জন শিকারি ১৮টি কাদাখোঁচা, একটি রাতচোরা, একটি ডাহুক পাখি ও একটি বালিহাঁস শিকার করেন। গত সোমবার সকালে পাখিগুলো এক লোকের কাছে ২ হাজার টাকায় বেচে দেন।
এদিকে চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা চলনবিল থেকে বকপাখি নিধনরোধ করতে সক্ষম হয়েছি। কারণ পাখিগুলো দিনে ফাঁদ পেতে ধরা হতো। রাতে পাখি শিকার বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ খুব জরুরি। চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সভাপতি আকতারুজ্জামান বলেন, চলনবিল থেকে বন্যার পানি নামার সময় ফাঁকা মাঠের খেতে, ডোবা, নালা ও খালে পুঁটি, দারকিনা, খলসেসহ প্রচুর পরিমাণে ছোট মাছ ও পোকা-মাকড় পাওয়া যায়। খাবারের লোভে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি চলনবিলে আসে। এ সুযোগে অসাধু শিকারিরা ফাঁদ পেতে পাখি নিধন করছে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের পরিচালক জহির আকন্দ বলেন, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাখি শিকারিদের এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটালে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেজবাউল করিম দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, পাখি শিকারিদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান জানা গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বস্তুত পাখি বাঁচাতে জনসচেতনতাই মুখ্য।